Home আর্কাইভ নির্বাচনকালীন সরকারে থাকতে পারেন যারা

নির্বাচনকালীন সরকারে থাকতে পারেন যারা

Published:September 13, 2018
নির্বাচন


Published: 11:58:53
1317
0

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: আগামী মাসের যে কোনো সময় গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার। একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনের সময় সংবিধান অনুযায়ী সরকারের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ছোট মন্ত্রিপরিষদ গঠন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৮ থেকে ২০ সদস্য নিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে। বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে আওয়ামী লীগের দুই ডজনের বেশি মন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়বেন। যারা অধিক যোগ্য তেমন মন্ত্রীদের পাশাপাশি সংসদের বিরোদী দল জাতীয় পার্টি, ১৪ দলের শরিক জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে কয়েকজন নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হতে পারে ।

এবাবের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় কাউকে মন্ত্রী করা না হলেও মন্ত্রীর পদমর্যাদায় কয়েকজনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করতে পারেন শেখ হাসিনা। এই ক্ষেত্রে এলডিপির সভাপতি কর্নেল অব: অলি আহমদের উপদেষ্টা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানা গেছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ক্লিন ইমেজের কয়েকজন সাংসদকে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় এনে নতুন চমক দিতে পারেন শেখ হাসিনা। তবে বর্তমান মন্ত্রিসভায় যারা দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্তন সাত থেকে আট জন নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন। এর মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

সংসদের প্রধার বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে নতুন করে জাপার মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু মন্ত্রী হতে পারেন বলে আওয়ামী ও জাপা শিবিরে জোর গুঞ্জন রয়েছে। জাসদের একাংশের কার্যকরী সভাপতি মাইনুদ্দিন খান বাদলের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায়ও মন্ত্রি হিসেবে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনেকটা অনানুষ্ঠানিক আলাপ আলোচনা শুরু করেছেন।

গত রোববার প্রধানমন্ত্রী রাতে তার সংসদ ভাবনের অফিসে আমন্ত্রণ জানিয়ে কথা বলেছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে। এই সময় এরশাদের সঙ্গে আরো ছিলেন, জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন অহমেদ বাবলু এমপি ও কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাপা নেতাদের বৈঠকের সময় এরশাদ নির্বাচনকালীন সরকারে জাপার মন্ত্রী সংখ্যা বাড়ানোর জন্য শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করেন বলেন, গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।

তবে জাপা নেতারা এই বিষয়ে মুখ না খুললেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এরশাদ সাহেব নির্বাচনকালীন সরকারের জাপা থেকে কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তা বিবেচনা করবেন।

জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন জাসদ নেতা মইনুদ্দিন খান বাদলের সঙ্গে । বিরোধী দলীয় নেতা ও জাপার সিনিয়ন কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া আজ কালের মধ্যে তিনি বৈঠক করবেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জেপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ ১৪ দলের শরিক বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে।

আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ছোট আকারের একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেক্ষেত্রে এবারও সরকারের নিয়ম মাফিক কাজ পরিচালনার জন্য ছোট আকারের মন্ত্রিসভাই গঠন করবেন তিনি। সেক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ আকার দাঁড়াতে পারে ২০ জনে। ফলে বর্তমান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থেকে অর্ধেকের বেশি বাদ পড়বেন।

মন্ত্রী থেকে নির্বাচনের সুযোগ হলে নির্বাচিত হয়ে আসা সহজ হবে বলে মনে করেন মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য। সাময়িক সময়ের জন্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে জেনেও বাদ পড়তে চান না কোনো মন্ত্রীই। তাই মন্ত্রিসভায় থাকতে নানাভাবে চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছেন তারা। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী মাসের মধ্যেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এই মন্ত্রিসভায় এবার টেকনোক্র্যাট কোটায় কাউকে মন্ত্রী করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

ফলে কর্নেল অলি আহমদ, কাদের সিদ্দিকীসহ আরো কয়েকজন আওয়ামী জোটবিরোধী নেতা নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাচ্ছেন বলে যে গুঞ্জন এতদিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল তা ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের মধ্যদিয়ে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী চাইলে মন্ত্রী মর্যাদায় যে কাউকে তিনি তার উপদেষ্টা নিয়োগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আওয়ামী মিত্র শক্তির বাইরের কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিযোগ করে নতুন চমক দিতে পারেন শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুনঃ
পৃথিবীর সব দেশের রাজধানীতে যানজটের সমস্যা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর