হোম আর্কাইভ ইভিএমে ভোট করার সক্ষমতা অর্জনে সময় লাগবে ১৫ বছর!

ইভিএমে ভোট করার সক্ষমতা অর্জনে সময় লাগবে ১৫ বছর!

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 10:20 am
370
0
ইভিএম

মাহমুদ: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুরো ৩০০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর মাধ্যমে ভোট গ্রহন করার সক্ষমতা অর্জনে ১০-১৫ বছরও লাগতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার।

এছাড়া রয়েছে আইনী জটিলতা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচলিত ব্যালট পেপারের পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহার করতে ইতিমধ্যে নির্বাচনি আইন (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২) সংশোধনের প্রস্তাব কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে। সংসদে বিল পাসের আগে এখন বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার সম্মতির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

Spellbit Limited

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা যদিও বলেছেন, আসন্ন একাদশ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তারপরও জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে।

বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। কারণ এটা প্র্যাকটিসের ব্যাপার। আমাদের পরীক্ষামূলক করে দেখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা চাচ্ছি, কিছু কিছু জায়গায় শুরু হোক, সীমিত আকারে এটা দেখুক। প্রযুক্তির কোনো সিস্টেম লস হয় কি না, সেটা দেখা যাক। সেটা হলে সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে। এটা এমন না যে এটাই শেষ কথা। আমরা সীমিত আকারে শুরু করি প্রযুক্তির ব্যবহার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. হায়দার আলী ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটিতে আছেন সদস্য হিসেবে। তিনি বলেন, প্রতিটি আসনে যদি একটি করে কেন্দ্রেও ইভিএমে ভোট করা হয়, তাহলে ৩০০ আসনে ১৫০০ ইভিএম লাগবে, তার সঙ্গে ১৫০ ইভিএম রিজার্ভ রাখতে হবে। আর যদি দুটি করে কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয় তাহলে ৬০০ কেন্দ্রে লাগবে ৩০০০ থেকে ৩৩০০ মেশিন।

ইসির হাতে এখন তিন শতাধিক ইভিএম রয়েছে জানিয়ে হায়দার আলী বলেন, আগামী দুই-তিন মাসে অনেক বেশি ইভিএম তৈরি করাও সম্ভব না। প্রতি কেন্দ্রে ৫টা ভোটকক্ষ থাকে। একটা কেন্দ্রেই অত কঠিন অবস্থা, এটা হিউজ ব্যাপার। একদিনে সারাদেশে ভোট নেওয়া মেশিন দিয়ে বেশ কঠিন ব্যাপার। দক্ষ জনবল নিয়ে সারাদেশে একদিনে এগুলো মেশিন রান করা খুব টাফ।

অধ্যাপক হায়দার আলী বলেন, সারাদেশে ১০০ থেকে ৩০০ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হলেও সেটা হবে ‘টেস্ট কেস’। সারা দেশে ইভিএম দিয়ে এখনই ভোট ‘সম্ভব না’। রংপুর, খুলনা, গাজীপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটে সাম্প্রতিক সিটি নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, সীমিত আকারে হলেও এই যন্ত্রের ব্যবহার চালু রাখার পাশাপাশি ইভিএমের ভোটদান পদ্ধতি, সিকিউরিটি, গুণগত মান- এগেুলো নিয়ে ব্যাপক প্রচার, জনসতেনতা তৈরি করা দরকার, যাতে মানুষ ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হতে পারে।

আরও পড়তে পারেন: এ বছর চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব নেই: সাঈদ খোকন

আজ থেকে ১০ বছর, ১৫ বছর পর সবাই যোগ্য হয়ে যাবে। এটা জনগণের ব্যাপার; জনগণের অংশগ্রহণটাই বড় ব্যাপার। স্বতস্ফূর্তভাবে জনগণ যেদিন এটাকে মেনে নেবে সেদিন ইসি সার্থক। দেশে প্রথমবার যে কমিশনের সময়ে ইভিএম চালু হয়েছিল, তখনকার নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, তাড়াহুড়ো না করে সীমিতভাবে ইভিএমে ভোট করতে হবে।

আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ডিসেম্বরের শেষভাগে ভোট হতে পারে বলে ইতিমধ্যে আভাসও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 

আরও পড়ুন: 
নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে: সিইসি
নতুন শ্রম আইনে যা থাকছে