হোম তথ্য-প্রযুক্তি চীনা ব্র্যান্ডগুলোর কারণে সংকটে স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন ব্যবসা

    চীনা ব্র্যান্ডগুলোর কারণে সংকটে স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন ব্যবসা

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 3:04 pm
    706
    0

    বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর অংশীদারিত্ব বাড়ছে। এর ফলে স্মার্টফোন ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে স্যামসাং। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ডিভাইসে নতুনত্ব আনার উদ্যোগ নিয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ।

    বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যমতে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) স্মার্টফোন বিক্রির দিকে থেকে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে শেনজেনভিত্তিক হুয়াওয়ে টেকনোলজিস। প্রান্তিকটিতে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে স্যামসাং। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিষ্ঠানটির দখল ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্মার্টফোন বাজার চীনে এর দখল কমেছে ১ শতাংশ। যদিও এক সময়ে দেশটির বাজারে স্যামসাংয়ের দখল দুই অংকে ছিল। গত প্রান্তিকে দেশটির বাজারে চীনের স্থানীয় চার ব্র্যান্ড হুয়াওয়ে, অপো, ভিভো ও শাওমির মোট দখল ৭৬ শতাংশে পৌঁঁছেছে। দেশটিতে চীনা ব্র্যান্ডের দখল বাড়ায় ক্রমেই বাজার হারাচ্ছে স্যামসাং।

    Spellbit Limited

    বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে হুয়াওয়ের দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান দখল স্যামসাংয়ের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ হুয়াওয়ে আগামী বছরের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে স্যামসাংকে টপকে শীর্ষ স্মার্টফোন সরবরাহকারীর আসন দখলের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

    বৈশ্বিক স্মার্টফোন সরবরাহে শীর্ষস্থানে থাকলেও ব্র্যান্ডমূল্যে পিছিয়ে রয়েছে স্যামসাং। বেস্ট গ্লোবাল ব্র্যান্ডসের তথ্য বলছে, গত বছর বৈশ্বিক ব্র্যান্ডমূল্যে শীর্ষস্থানে ছিল অ্যাপল। এর ব্র্যান্ডমূল্য ছিল ১৮ হাজার ৪২০ কোটি ডলার। ব্র্যান্ডমূল্যে দ্বিতীয় স্থানে ছিল গুগল, যার ব্র্যান্ডমূল্য ১৪ হাজার ১৭০ কোটি ডলার। অন্যদিকে এ তালিকায় ছয় নম্বরে ছিল স্যামসাং। এর ব্র্যান্ডমূল্য ছিল ৫ হাজার ৬২০ কোটি ডলার।

    স্যামসাং ফোল্ডেবল বা ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনে চমক দেখাতে চাইছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে ডিভাইস সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্য স্থির করেছে। এ বিষয়ে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কোহ ডং জানান, বাজারে যখন ফোল্ডেবল ফোন আসবে, তখন আপনারা বুঝতে পারবেন, স্যামসাং সত্যিই উন্নত ডিভাইস এনেছে। এজন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরের শুরুর দিকে ফোল্ডেবল ফোন উন্মোচনের পরিকল্পনা নিয়েছে স্যামসাং। গ্যালাক্সি এস সিরিজের দশম মডেল উন্মোচন উপলক্ষে ডিভাইসটি বাজারে আনবে স্যামসাং। তাদের দাবি, ফোল্ডেবল ফোন প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ফোল্ডেবল ফোন এবং নতুন উন্মোচিত গ্যালাক্সি নোট ৯-এর মাধ্যমে বাজারে দখল বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

    চীনে স্যামসাংয়ের দুটি মোবাইল ফোন উৎপাদন কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে একটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চীনের বাজারে স্যামসাংয়ের ডিভাইস বিক্রি কমে যাওয়ায় এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় স্যামসাং এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে। তবে স্যামসাং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তিয়ানজিন কারখানা বিষয়ে এখন পর্যন্ত তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি।

    অ্যাপলকে টপকে এক সময়ে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে শীর্ষস্থান দখল করেছে স্যামসাং। প্রতিষ্ঠানটি এখন নিজেই চীনা ব্র্যান্ডের কাছে শীর্ষ অবস্থান হারানোর পথে। এ থেকে রক্ষা পেতে প্রতিষ্ঠানটি ডিভাইস উদ্ভাবনে নতুনত্ব আনতে চায়।

    বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন বাজার ভারত। গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে দেশটির বাজারে শাওমির কাছে শীর্ষস্থান হারিয়েছিল স্যামসাং। কাউন্টারপয়েন্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে শাওমির কাছ থেকে শীর্ষস্থান উদ্ধারে সক্ষম হয়েছে স্যামসাং। তবে এ অবস্থান ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    স্যামসাংয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী চীনা ব্র্যান্ডগুলোর কারণে স্যামসাং চাপে রয়েছে। তাদের যেহেতু বেশ কয়েকটি চীনা ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে, সেজন্য প্রতিটি ব্র্যান্ডকে মোকাবেলার জন্য আলাদা কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তবে এটি খুবই কঠিন কাজ।

    চলতি মাসের শুরুর দিকে স্যামসাং জানিয়েছে, আগামী তিন বছরে তারা সেমিকন্ডাক্টর, ডিসপ্লে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ফাইভজিসহ বেশ কয়েকটি খাতে মোট ১৮০ ট্রিলিয়ন ওন বিনিয়োগ করবে।