Home আর্কাইভ বহুজাতিক কোম্পানির জন্য পিএসসি সংশোধন

বহুজাতিক কোম্পানির জন্য পিএসসি সংশোধন

Published:August 18, 2018
Multinational Company


Published: 11:29:56
197
0

ডেস্ক রিপোর্ট: গভীর সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে বহুজাতিক কোম্পানিকে আগ্রহী করতে উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংশোধিত পিএসসির খসড়া অনুমোদনের জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এর ফলে গ্যাসের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। সেই সাথে অনুসন্ধান উত্তোলন ব্যয়ের (কষ্ট রিকভারি) হারও বৃদ্ধি করা হবে। নতুন পিএসসি অনুমোদন পেলে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনের পর উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তির সংশোধনীটি আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রীসভার অনুমোদনের পর তা চূড়ান্ত হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী যেখানে গ্যাসের দাম কমছে, সেখানে বাংলাদেশে দাম বাড়ানোর বিষয়ে পেট্রোবাংলা বলছে, গ্যাসের দাম না বাড়ালে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কেউ (উত্তোলনকারী কোম্পানি) আসছে না।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমায় গত কয়েক বছর ধরেই সারাবিশ্বে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দামও কমে যায়। এ ছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশের মডেল পিএসসিতে যে গ্যাসের দাম আছে তা বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে আকর্ষণীয় নয়। এর ফলশ্র“তিতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ হারায়। শুধু দামের কারণে মার্কিন কোম্পানি কনকোফিলিপস সাগরের দুটি ব্লক জরিপ করেও কূপ খনন না করে চলে যায়।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরামর্শকরা পিএসসির দুটি জায়গায় পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে- গ্যাসের দাম বৃদ্ধি আর অন্যটি কস্ট রিকভারির হার। বিদেশি কোম্পানিগুলো শুরু থেকেই ১০০ ভাগ কস্ট রিকভারি দাবি করছে। অর্থাৎ তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে তারা যে অর্থ ব্যয় করবে তার পুরোটাই তারা তুলে নেবে। এমন হলে পেট্রোবাংলা কোনও গ্যাস পাবে না।

কর্মকর্তারা আরও জানান, সর্বোচ্চ কস্ট রিকভারির পরিমাণ ৬৫ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখার পক্ষে পেট্রোবাংলা। এখন গভীর সমুদ্রে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম সাড়ে ৬ ডলার। বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী কোম্পানিগুলো চাইছে, এই দাম বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের এলএনজির সমান করতে। একবারে দাম বাড়িয়ে ৮ থেকে ৯ ডলার করার দাবি করেছে তারা। কিন্তু পেট্রোবাংলা এই দাম এতো বেশি বাড়াতে ইচ্ছুক নয়।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, সংশোধিত মডেল পিএসসি ২০১৮ নামে অভিহিত হবে। পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে সংশোধনীর কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন অনুমোদনের জন্য জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরপরই আমরা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। এমনিতেই সাগরে একটি কূপ খনন করে সেখান থেকে গ্যাস পেতে কমপক্ষে ৯ থেকে ১০ বছর সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অন্যদিকে দেশীয় কোম্পানি বাপেক্সের পক্ষে সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানের মতো অভিজ্ঞতা ও যন্ত্রাংশ নেই। পাশাপাশি অনুসন্ধানে যে পরিমাণ খরচ হবে, বাপেক্সের পক্ষে সেই ঝুঁকি নেয়া সম্ভব নয়। তাই বিদেশি কোম্পানিগুলোকে আমরা এই কাজে আগ্রহী করতে চাই।

সূত্র জানায়, দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ৪৮টি ব্লক রয়েছে। এসব ব্লকের মধ্যে স্থলভাগে ২২টি এবং সাগরে ২৬টি রয়েছে। সাগরের ব্লকগুলোর মধ্যে আবার অগভীর সাগরে ১১টি এবং গভীর সাগরে ১৫টি। স্থলভাগে শেভরন বাংলাদেশ ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ব্লক থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। ক্রিস এনার্জি ৯ নম্বর ব্লক অর্থাৎ বাঙ্গুরা থেকে গ্যাস তুলছে। অন্যদিকে সাগরের ৪টি ব্লকে কাজ করছে সান্তোস-ক্রিশ এনার্জি, ওএনজিসি এবং পেসকো দাইয়ু।

পেট্রোবাংলা জানায়, সাগরে মোট ৪টি কূপ খনন করার পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় কোম্পানি ওএনজিসি এসএস-৪ এবং এসএস-৯ নম্বর ব্লকে তিনটি কূপ খনন করবে। অন্যদিকে সান্তোস এসএস-১১ নম্বর ব্লকে একটি কূপ খনন করবে। এ ছাড়া ডিএস-১২ নম্বর ব্লকে পেসকো দাইয়ু ২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক জরিপের কাজ শুরু করবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ। এই জরিপের কাজের পরপরই তারাও একটি কূপ খননের কাজে হাত দেবে।

পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গভীর সাগরের দুটি ব্লক এবং অগভীর সাগরের একটি ব্লকে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ইওআই (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) আহ্বান করে পেট্রোবাংলা। ক্রিশ এনার্জি, পেসকো দাইয়ু ও স্টেটওয়েল আগ্রহ দেখায়। কিন্তু পরে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে আরএফপি (রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল) চাওয়া হলে কোনও কোম্পানি তা জমা দেয়নি। এ অবস্থায় সরকার পিএসসি সংশোধন করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী করার উদ্যোগ নিয়েছে।

আরো পড়ুন: 

ইস্টার্ন ব্যাংকের ঋণখেলাপির তালিকায় সি সাইড মেরিন