হোম অর্থ-বাণিজ্য ঢাকাসহ সারাদেশে হেলমেটের বিক্রি বেড়েছে

ঢাকাসহ সারাদেশে হেলমেটের বিক্রি বেড়েছে

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 12:49 pm
435
0

ডেস্ক রির্পোট: নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের রেশ এসে ঠেকেছে হেলমেটের বাজারে। বেড়েছে এর বিক্রি। ব্যস্ত সময় পার করছেন মোটরসাইকেল যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ীরাও। তারা বলছেন, আগে দিনে ১০-১২টি হেলমেট বিক্রি করাই কঠিন ছিল, এখন অনায়াসেই ৪০-৫০টি বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো দোকানি দিনে শতাধিক হেলমেট বিক্রির কথাও জানিয়েছেন।

মোটরসাইকেলচালক ও আরোহীর হেলমেট ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা আগেও ছিল। তবে অনেকেই তা মানতেন না। রাজধানীতে চালকদের হেলমেট ব্যবহার করতে দেখা গেলেও আরোহীদের বেশির ভাগই এড়িয়ে যেতেন। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় হেলমেট ছাড়া আরোহীদের মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে দিতে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশও। আরোহীর হেলমেট না থাকলে চালককে মামলা দেয়া হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়িতে সতর্ক হয়ে উঠেছেন চালক-আরোহী সবাই। এসব কারণেই মূলত ঢাকাসহ সারা দেশে হেলমেটের বিক্রি বেড়েছে।

Spellbit Limited

রাজধানীতে মোটরসাইকেল যন্ত্রাংশের অন্যতম বাজার বাংলামোটর। গতকাল এখানকার একাধিক দোকানে খোঁজ নিয়ে হেলমেট বিক্রি বৃদ্ধির সত্যতা মিলেছে। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বাংলামোটরের প্রায় ২০টি দোকান ঘুরে সবক’টিতেই হেলমেটের ক্রেতা দেখা গেছে।

বাংলামোটরের ফরহাদ অটো মার্কেট নামের একটি দোকানে মাথায় হেলমেট লাগিয়ে ফিটিং হচ্ছে কিনা দেখে নিচ্ছিলেন সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ। হেলমেট কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর থেকেই হেলমেট পরা নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। না পেলেই মামলা দিচ্ছে। এ কারণে হেলমেট কিনছি।

ইশতিয়াক আহমেদের মতো নিজের জন্য না হলেও যাত্রীর জন্য হেলমেট কিনেছেন পাঠাওয়ের বাইকার আলী রেজা। তিনি জানান, তার নিজের হেলমেট রয়েছে। সবসময় সেটি পরেনও। কিন্তু যাত্রীর জন্য হেলমেট নেই। এ কারণে গতকাল ফার্মগেট এলাকায় তাকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশ। মামলা দিয়ে ২০০ টাকা জরিমানাও আদায় করে। আগামীতে যাতে পুলিশি হেনস্তায় পড়তে না হয়, সেজন্য যাত্রীর জন্য হেলমেট কিনেছেন।

গত রোববার থেকে হেলমেট বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বাংলামোটরের মমতাজ ম্যানশন অটো কার মার্কেটের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ক্রেতাদের বেশির ভাগই পাঠাও-উবারসহ বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং অ্যাপের চালক। সাধারণ মোটরসাইকেল চালকও রয়েছেন। বিভিন্ন দামের হেলমেট থাকলেও ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে যেসব হেলমেট আছে, সেগুলোই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুরক্ষা ব্যবস্থা ও ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে হেলমেটের দাম। হালকা-পাতলা, সামনে কাচ বা প্লাস্টিকের একটি হেলমেটের দাম ২৫০ থেকে ১ হাজার টাকা। ভালো মানের হেলমেটগুলো ২ থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। নারী ও শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা হেলমেট। এগুলো ১ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে গ্লাইডার্স, ভেগা, সেফমেট, রিপ্লে, স্টাডস ব্র্যান্ডের হেলমেটের চাহিদা বেশি।

বাংলামোটর ছাড়াও রাজধানীর মালিবাগ, বাসাবো, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, বংশাল, পুরান ঢাকা, রামপুরা এলাকার মোটরবাইকের যন্ত্রাংশের দোকানগুলোয় বেড়েছে হেলমেটের বিক্রি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নতুন মোটরযান নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডারের হিসাব বলছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ঢাকায় নিবন্ধিত হয়েছে ৩২ হাজার ৫৬২টি মোটরসাইকেল। মাসের হিসাব করলে প্রতি মাসে নিবন্ধন হয়েছে ৮ হাজার ১৪০টি। দিনের হিসাবে প্রতিদিন ২৭১টি করে মোটরসাইকেল নেমেছে শুধু রাজধানীতেই। আর সারা দেশে দিনে নেমেছে ১ হাজার ৫৫টি করে মোটরসাইকেল। অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা জনপ্রিয়তা পাওয়ায় মোটরসাইকেল বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

ঢাকার অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালকরা নিজে হেলমেট ব্যবহার করলেও আরোহীকে হেলমেট দিতে খুব কমই দেখা যায়। সাধারণ চালকরাও আরোহীর হেলমেট পরা নিয়ে খুব একটা গা করেননি এতদিন। হঠাৎ চালকসহ আরোহীর হেলমেট ব্যবহার নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ হওয়ায় বাজারে এর বিক্রি বেড়েছে। শুধু রাজধানী নয়, হেলমেটের বিক্রি বেড়েছে দেশের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরের দোকানগুলোতেও।

আরও পড়তে পারেন:  গোয়েন্দা নজরে উসকানিদাতারা

বিক্রির পাশাপাশি আরোহীদের মধ্যে হেলমেটের ব্যবহার বৃদ্ধিও চোখে পড়েছে গতকাল। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শ্যামলী, টেকনিক্যাল এলাকা ঘুরে চালকের পাশাপাশি অনেক আরোহীকেও হেলমেট পরতে দেখা গেছে। এর কোনো কোনোটিতে আবার বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং কোম্পানির লোগোও দেখা গেছে।

চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ৫ আগস্ট দেশব্যাপী ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হয়েছে। ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, ফিটনেস, লাইসেন্সসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে চালক ও আরোহী হেলমেট ব্যবহার করছেন কিনা, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ট্রাফিক সপ্তাহ শেষ হওয়ার পরও আমরা এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাব।সূত্র-বণিক বার্তা।

আরও পড়ুন:
তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন সম্ভব নয়
৩০ হাজার একর জমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল
ঢাকায় ২০ অস্থায়ী পশুর হাটের ৭টির ইজারা এখনো হয়নি