হোম আইন-আদালত ১৮ এপ্রিল ২০১৯ এর মধ্যে ডেসটিনির মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

১৮ এপ্রিল ২০১৯ এর মধ্যে ডেসটিনির মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 8:41 pm
393
0
ডেসটিনির মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কলাবাগান থানার ৩২ ও ৩৩ নম্বর মামলা যা ঢাকার ৫নং বিশেষ আদালতে বিচারাধীন দু’টি মামলা যার নম্বর ১৬/১৭ এবং ১৭/১৭ বা জি.আর ১৩৮ ও ১৩৯ আগামী বছরের ১৮ এপ্রিলের মধ্যে নিম্ন আদালতকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ রবিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি ড. কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

Spellbit Limited

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। এ সময় ডেসটিনি’র আইনজীবী ব্যারিষ্টার মাঈনুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে আমিন উদ্দিন মানিক জানান, দুদকের এক আবেদনের পর ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট এক আদেশে হাইকোর্ট এক বছরের মধ্যে বিচারিক আদালতে মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে এর মধ্যে শেষ না হওয়ায় গত ২৪ জুন সংশ্লিষ্ট ৫নং বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবরে সময় বৃদ্ধির জন্য একটি স্মারক পাঠান।

‘বিশেষ মামলা নং ১৭/২০১৬ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সময় বর্ধিতকরণ প্রসঙ্গে’ শীর্ষক সেই স্মারকে বলা হয়, ‘২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ আদেশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে এই মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেসনিটি’র আইনজীবী কর্পোরেট সংবাদকে জানান, এত বড় মামলা সঠিকভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। তারপরও হাইকোর্ট যে সময় দিয়েছেন, বিচারিক আদালত চেষ্টা করবেন নির্ধারিত সময়ে মধ্যে বিচারক আদালত মামলা শেষ করতে। শেষ করতে না পারলে উচ্চ আদালতে সময়ের প্রার্থনা করা সুযোগ রয়েছে। 

জানতে চাইলে ডেসটিনি’র আইনজীবী প্যানেলের প্রধান সমন্বয়কারী কর্পোরেট সংবাদকে বলেন, ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মামলা দু’টির দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষে প্রত্যেক রবিবার মামলার স্বাক্ষীর হাজিরা ও স্বাক্ষী এবং জেরার জন্য দিন রাখছেন। উভয় পক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত থাকছেন। অর্থাৎ উভয় পক্ষই চাচ্ছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলা দু’টির বিচারিক কার্যক্রম শেষ হোক। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হলে তা ডেসটিনি’র পক্ষেই আসবে। কারণ, মামলায় দীর্ঘসূত্রিতা বা স্বল্প সময় কোন অবস্থায়ই দুদক ডেসটিনি’র মানি লন্ডারিংয়ের বিষয় প্রমাণ করতে পারবে না। 

২০১২ সালের ১১ অক্টোবর ডেসটিনির তিনজন শীর্ষ ব্যক্তি কলাবাগান থানায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক দায়েরকৃত মানি লন্ডারিং মামলায় আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন চাইলে, আদালত জামিন নামঞ্জুর করে দুই দফায় ২৪ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং আসামীদের কারাগারে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল হারুন-অর-রশিদ এর জামিন মঞ্জুর করলেও জামিন আটকে থাকে ডেসটিনি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ জুলাই ডেসটিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুদকের মানি লন্ডারিং মামলায় ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি-২০০০ লি: এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন হাইকোর্ট থেকে তাদের পাসপোর্ট আদালতে জমার রাখার শর্তে জামিন আদেশ পেয়েছিলেন। কিন্তু জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক আপীল করলে তাঁদের মুক্তির বিষয়টি আটকে যায়। পরবর্তীতে একই বছরের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের আপীলেড ডিভিশন নতুন কিছু শর্ত সাপেক্ষে ডেসটিনির শীর্ষব্যক্তিদের জামিনে মুক্তির আদেশ বহাল রাখেন। 

আরও পড়ুন: 
নেত্রকোনায় শিশু কন্যাকে হত্যার দায়ে পিতার ফাঁসি
ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরার ৬ বছরের কারাদণ্ড