Home অর্থ-বাণিজ্য কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্পনগরী

কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্পনগরী

372
0
বিসিক শিল্পনগরী

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: কুড়িগ্রাম শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়ক ঘেঁষে ১৯৮০ সালে গড়ে তোলা হয় বিসিক শিল্পনগরী। লক্ষ্য ছিল কর্মমুখী শিল্প-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে জেলার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো। কিন্তু প্রতিষ্ঠার তিন যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ এ শিল্পনগরী। ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ না থাকায় উদ্যোক্তারা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। দীর্ঘ ৩৮ বছরের যাত্রাতেও কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীতে উল্লেখ করার মতো শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য এখন অধরা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চরম অবহেলার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীকে। সরকারের সুনজর থেকে বঞ্চিত এ শিল্পাঞ্চল। ৩৮ বছরেও এখানে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। সংস্কারের অভাবে শিল্পনগরীর অভ্যন্তরীণ সড়ক, কালভার্ট ও ড্রেনগুলোর অবস্থা যাচ্ছেতাই। সরকারি বরাদ্দের অভাবে প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা রয়ে গেছে সংস্কারহীন। বেহাল এ রাস্তা দিয়েই চলাচল করতে হয় সংশ্লিষ্টদের।

১৯৮০ সালে ২০ একর জমি অধিগ্রহণ করে কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয় ও ৪৪টি ইউনিটের বিপরীতে ১৩৩টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে এখানে চালু মাত্র ২৮টি ইউনিট। এর মধ্যে কর্মমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান বলতে একটাই— কুড়িগ্রাম জুট প্রসেসিং মিল। বাকিগুলো ছোটখাটো মিল বা চাতাল। কুড়িগ্রাম জুট প্রসেসিং মিলে দুশ থেকে আড়াইশ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর প্রতিটি মিল-চাতালে কাজ করছেন মাত্র ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বারবার কথা বলেও কোনো সুফল মিলছে না। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শিল্পনগরীর রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথা নেই। মাঝেমধ্যে ব্যবসায়ীরা নিজ খরচে ছোটখাটো সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করেন বটে, তবে তা শিল্পনগরীর সার্বিক রুগ্ণ দশা পাল্টাতে পারে না।

রাস্তা তো রয়েছেই, এখানকার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ক্ষোভ রয়েছে ড্রেনেজ ও লাইটিং ব্যবস্থা নিয়েও। তারা বিসিক শিল্পনগরীতে নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও রাস্তা-ড্রেন মেরামতের দাবি জানান। কুড়িগ্রাম জুট প্রসেসিং মিলের শ্রমিক আবুল হোসেন বলেন, এখানে শুকনো মৌসুমে ভাঙা রাস্তা দিয়ে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে একেবারেই বেহাল হয়ে পড়ে। আমরা রাস্তা মেরামতসহ সড়কবাতি লাগানোর দাবি জানাচ্ছি।

শিল্পনগরীর পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা আকবর আলী জানান, এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে— এ আশা নিয়েই আমরা সরকারকে নিজেদের আবাদি জমি দিয়েছিলাম। কিন্তু এখানকার কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে এখানে কর্মমুখী কোনো শিল্প গড়ে ওঠেনি। শিল্পনগরীর অটো রাইস মিল ব্যবসায়ী মহসিন আলী জানান, আমরা এখানে প্লট নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও আদর্শ শিল্পনগরীর কোনো সুযোগ-সুবিধা পাইনি। অথচ আমরা এর উন্নয়নে নিয়মিত সার্ভিস চার্জ দিয়ে যাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু সরকারি বরাদ্দ না থাকার অজুহাত দেখান। অনুকূল পরিবেশ না থাকায় এখানে বড় শিল্পোদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে চান না। আমরা কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর কামনা করছি।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক মো. মকবুল হোসেন জানান, পড়ে থাকা ইউনিটগুলো ভালো শিল্পোদ্যোক্তাদের কাছে বরাদ্দ দিয়ে সেগুলোয় কর্মমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে। রাস্তা ও ড্রেনসহ সব সমস্যা সমাধানের জন্য বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া যাবে। বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন: 
অনুমোদন পেল এনএফসি প্রযুক্তির কার্ডভিত্তিক লেনদেন
প্রমাণ ছাড়া ‘১০০% পিওর’ বিজ্ঞাপন দিলে বিপদে পড়বেন ব্যবসায়ীরা