হোম আইন-আদালত পুলিশ কর্মকর্তা মামুন হত্যার নেপথ্যে নারী রহস্য

পুলিশ কর্মকর্তা মামুন হত্যার নেপথ্যে নারী রহস্য

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 12:17 pm
1496
0
পুলিশ কর্মকর্তা মামুন
ডেস্ক রির্পোট: পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে তিন নারীসহ অন্তত আটজনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে রহমতউল্যাহ নামে একজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ; আটক করা হয়েছে আফরিন নামে এক অভিনেত্রীকেও। তারা দুজন পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

আফরিনের জন্মদিনের পার্টির কথা বলে রহমতউল্যাহ ৮ জুলাই রাত সাড়ে আটটায় পরিদর্শক মামুনকে বনানী মডেল টাউন এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। ওই ফ্ল্যাটেই খুন হন মামুন।

এর পর ৯ জুলাই সারা দিন লাশ নিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে ঘাতকচক্র, কোথায় লাশ গুম করা যায়, তার সন্ধানে। পরে চক্রটি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলার একটি জঙ্গল বেছে নেয়। সেখানেই পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে অঙ্গার করে ফেলা হয় পুলিশ পরিদর্শক মামুনের লাশ, যেন শনাক্ত করা না যায়।

Spellbit Limited

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়নি। পরনের প্যান্ট ও কোমরের বেল্ট দেখে মামুনের পরিবারের সদস্যরা তার লাশ শনাক্ত করেন। এখন একে একে বেরিয়ে আসছে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য।

রহমতউল্যাহকে গতকাল আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি চৌকস দল ইতোমধ্যেই হত্যাকান্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থেই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা এখন মুখ খুলছেন না।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জন্মদিনের কথা বলে পুলিশ কর্মকর্তা মামুনকে ডাকা হলেও বনানীর ওই ফ্ল্যাটে কোনো অনুষ্ঠান ছিল না সেদিন রাতে। রহমতউল্যাহ ও মামুন ইমরান খান ফ্ল্যাটে প্রবেশ করার পর পরই ৫/৬ জন যুবক প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পরই তারা ফ্ল্যাটের ভেতরে অবস্থানরতদের মারপিট শুরু করে এবং নিজেদের পরিচয় দেয় পুলিশ হিসেবে। তখন মামুন নিজের পরিচয় দেন এবং পরিচয়পত্র দেখান। পরিচয় জানার পর মামুন ইমরান খানকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে ওই যুবকরা। এক পর্যায়ে তিনি মারা যান।

ঘটনার সময় ওই ফ্ল্যাটে ৩ নারী ছিলেন। যাদের সবাই চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে কার কী ভূমিকা ছিল, কী কারণে মামুন ইমরান খানকে হত্যা করা হলো তা পরিষ্কার হয়নি।

গ্রেপ্তারকৃত রহমতউল্যাহ মামুন ইমরান খানের পূর্ব-পরিচিত ছিলেন। ঘটনার রাতেই প্রথমবারের মতো ওই ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন মামুন। কে, কেন এই পুলিশ কর্মকর্তাকে ফাঁদে ফেলেছে রহমত, না ৩ নারীর কেউ, নাকি এর বাইরে তৃতীয় কেউ তা এখনও স্পষ্ট নয়।

একটি সূত্র বলছে, বিত্তবানদের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে অসামাজিক কার্যকলাপের সুযোগ করে দেয় ঘাতকচক্র এবং একপর্যায়ে ফাঁদ পাতে। তারা প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে ফ্ল্যাটে আগতদের আইনের ভয়ের পাশাপাশি লোকলজ্জার ভয় দেখিয়ে বিপাকে ফেলে। এর পর মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। এই চক্রে নায়িকাও রয়েছেন।

আরও পড়ুন:

মির্জাপুরে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদসহ আটক ১

৩৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর