Home আন্তর্জাতিক থাই গুহায় আটকে পড়া ফুটবলারদের সাথে তিনদিন ছিলেন যে ডাক্তার

থাই গুহায় আটকে পড়া ফুটবলারদের সাথে তিনদিন ছিলেন যে ডাক্তার

থাই ফুটবলার


Published: 20:44:26
7186
0

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার একজন চিকিৎসক রিচার্ড হ্যারিস। এরই মধ্যে তিনি খবর পেলেন যে দেশটির উত্তরাঞ্চলে একটি পাহাড়ের গুহার ভেতরে আটকা পড়েছে ১২ জন কিশোর ফুটবলার এবং তাদের কোচ।

প্রথম এক সপ্তাহ ওই শিশুদের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা গেল যা তারা থাম লুয়াং নামের একটি গুহার গভীরে আটকা পড়ে আছে। গুহার কোন কোন অংশ পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে ওই বাচ্চারা সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারছিল না।

শিশুদের আটকে পড়ার খবর শোনার পর হ্যারিস থাইল্যান্ডে তার হলিডে বাতিল করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে তাদেরকে উদ্ধারে তিনি একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করবেন।

ওয়াইল্ড বোয়ার ফুটবল দলের কিশোর সদস্যদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখতে চিকিৎসক রিচার্ড হ্যারিস গুহার ভেতরে গিয়েছিলেন। তিনি তখন সেখান থেকে বেরিয়ে না এসে শিশুদের সাথে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তারপর গুহার ভেতরে তিনদিন ছিলেন তিনি।

শিশুদের সবাইকে যে গুহার ভেতর থেকে সফলভাবে বের করা আনা সম্ভব হয়েছে তার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল হ্যারিসের। প্রথমে যে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছেলেদেরকে বের করে আনা হয়েছিল সেটা হয়েছিল তারই নির্দেশনায়।

তারপর তিনদিন ধরে জটিল ও বিপদজনক এক অভিযান চালিয়ে এক এক করে তাদের সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

ড. হ্যারিস, সবার কাছে যিনি পরিচিত হ্যারি নামে, ধারণা করা হচ্ছে, গুহার ভেতর থেকে যেসব উদ্ধারকারী সবার শেষে বেরিয়ে এসেছিলেন, তিনি তাদের একজন।

সব শিশুদেরকে যখন গুহার ভেতর থেকে নিরাপদে বের করে আনা হলো তখন সেই আনন্দে যোগ দিতে পারলেন না ড. হ্যারিস। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই তিনি খবর পেলেন যে তার পিতা মারা গেছেন।

পরে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার যে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে ড. হ্যারিস চাকরি করেন, তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,উদ্ধার অভিযানের সময় ড. হ্যারিস যে ধরনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন সেটা তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছিল।

“হ্যারি একজন ধীর স্থির এবং হৃদয়বান ব্যক্তি। বাচ্চাদের উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার চিন্তা করেন নি।”

ড. হ্যারিসকে খুঁজে বের করেছিল ব্রিটিশ ডুবুরিরা। তারপরই তাকে এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার সরকার বলছে, থাই সরকারের খুব উচ্চ পর্যায় থেকে তাকে এই অনুরোধ করা হয়েছিল। “গুহার ভেতরে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করার ব্যাপারে ড. হ্যারিসের যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান আছে সেসব কারণে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। থাই শিশুদের উদ্ধারেও বড় রকমের ভূমিকা ছিল তার,” বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী জুলি বিশপ।

থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই রাজ্যের গভর্নর নারংসাক ওসোতানাকর্ণ, যিনি এই উদ্ধার তৎপরতায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, “অস্ট্রেলিয়ানরা খুব সাহায্য করেছে। বিশেষ করে ডাক্তার হ্যারিস।”

বলা হচ্ছে, আটকে পড়া শিশুদেরকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সাহস যুগিয়েছেন। এছাড়াও বের হয়ে আসার জন্যে তিনি তাদেরকে প্রস্তুত করেছেন। বিশেষ করে গুহার ভেতরে ডুবসাঁতার দেওয়ার ব্যাপারে।

আরও পড়তে পারেন: পাকিস্তানে নির্বাচনী সভায় আত্মঘাতী হামলা, প্রার্থীসহ নিহত ১৫

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মি. হ্যারিসের বড় ধরনের প্রশংসা হয়েছে। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অনেকে। কেউ কেউ তাকে ‘বছরের সেরা অস্ট্রেলিয়ান’ হিসেবে ঘোষণা করারও অনুরোধ করেছেন।অভিজ্ঞ এই ডুবুরি পানির নিচে ছবি তোলার ব্যাপারেও দক্ষ। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ক্রিসমাস আইল্যান্ড এবং চীনে গুহার ভেতরে এবং বহু অভিযানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ২০১১ সালে এমন এক ঘটনায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল যখন তার একজন বন্ধু অক্সিজেনের অভাবে মারা গিয়েছিলেন। বন্ধুর মৃতদেহটি তখন তাকেই গুহার ভেতর থেকে উদ্ধার করে আনতে হয়েছিল।সূত্র-বিবিসি।

আরও পড়ুন:
জাপানে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৯
যেভাবে উদ্ধার হলো থাই ১৩ খুদে ফুটবলার

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.