Home আর্কাইভ রানার অটোমোবাইলসকে বিডিংয়ের অনুমতি

রানার অটোমোবাইলসকে বিডিংয়ের অনুমতি



Published: 14:53:58
90
0

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করতে চায় রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড। প্রকৌশল খাতের কোম্পানিটিকে যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (ইআই) ইলেকট্রনিক বিডিংয়ের মাধ্যমে কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণের অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় গতকাল এ সিদ্ধান্ত হয়।

কমিশন সভা শেষে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইপিওর মাধ্যমে রানার অটোমোবাইলস পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। সংগৃহীত অর্থ গবেষণা ও উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ব্যাংকঋণ পরিশোধ এবং আইপিওর ব্যয় নির্বাহে খরচ করবে কোম্পানিটি। ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, পুনর্মূল্যায়নজনিত উদ্বৃত্তসহ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ৫৫ টাকা ৭০ পয়সা। এ উদ্বৃত্ত হিসাব না করলে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৪১ টাকা ৯৪ পয়সা। শেয়ারপ্রতি আয়ের (ইপিএস) ভারিত গড় ৩ টাকা ৩১ পয়সা।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৬ সালের অক্টোবরে বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানির সার্বিক অবস্থা তুলে ধরতে রোড শো আয়োজন করে রানার অটোমোবাইলস। এতে যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড, স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড, রিকগনাইজ পেনশন অ্যান্ড প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

রোড শোতে রানার অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান জানান, নিজস্ব ইঞ্জিন নম্বর ও চেসিস নম্বর ব্যবহার করে দেশে রানারই প্রথম মোটরসাইকেল ম্যানুফ্যাকচার করে। ৮০ থেকে ১৫০ সিসি সেগমেন্টের বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বাজারজাত করছে তারা। বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে নতুন মডেলের মোটরসাইকেল তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান মডেলগুলোর মান আরো বাড়াতে চায় রানার। মোটরসাইকেল তৈরিতে রানার এরই মধ্যে বেশ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যা আগামী দিনগুলোয় কোম্পানিটির ব্যবসা বাড়াতে সহায়ক হবে। এজন্য বিনিয়োগকারীসহ সবার সহযোগিতা চান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত বছর নেপালের বাজারে রানারের মোটরসাইকেল রফতানির কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

রেড হেরিং প্রসপেক্টাস অনুসারে, ২০০০ সালে যাত্রা করা রানার অটোমোবাইলসের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির বিক্রি ৫১৬ কোটি টাকা ছাড়ায়।

কোম্পানিটির ঘোষণা অনুসারে, আইপিওর ৩৩ কোটি টাকা ব্যাংকঋণের একটি অংশ পরিশোধে ব্যয় হবে। আইপিওর ব্যয় নির্বাহে খরচ হবে ৪ কোটি টাকা। আর বাকি ৬৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে কোম্পানির ব্যবসা উন্নয়নে। এর অংশ হিসেবে ১১০ থেকে ১৫০ সিসি রেঞ্জের নতুন মডেলের মোটরসাইকেল তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান মডেলগুলোরও মান বাড়ানো হবে বলে রোড শোতে জানানো হয়েছিল।

রানার অটোমোবাইলসকে শেয়ারবাজারে আনতে ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। রেজিস্টার টু দ্য ইস্যু লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। নিরীক্ষক হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানি।

আরও পড়ুন: 

অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহী সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীরা

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.