Home অর্থ-বাণিজ্য এডিআর বেশি থাকায় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

এডিআর বেশি থাকায় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংক


Published: 14:50:45
170
0

ডেস্ক রির্পোট: ব্যাংকগুলোর আগ্রাসী বিনিয়োগের লাগাম টানতে ঋণ ও আমানতের অনুপাত বা এডি রেশিও (এডিআর) সীমা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ৮৩ দশমিক ৫০ এবং ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ৮৯ শতাংশ এডিআর নির্ধারণ করে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে নতুন এডিআর সমন্বয়ের সময় বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এডিআর বেশি থাকা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এডিআর সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকগুলো সুর্নিদিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিনিয়োগের লাগাম টেনে আমানত বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু ঋণ ও আমানতের সুদহার নিয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত পুরো পরিকল্পনাকেই পাল্টে দিচ্ছে। হঠাৎ করেই সুদহার কমানোর ঘোষণায় আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে সঞ্চয়পত্র, সমবায় সমিতিসহ মুনাফা বেশি এমন খাতে বিনিয়োগ করা শুরু করেছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নির্ধারিত সময়ে এডিআর সমন্বয় দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন তারা।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এডিআর সমন্বয়ে ব্যাংকগুলোকে কঠোর সতর্ক বার্তা দেয়া হচ্ছে। এডিআর বেশি থাকা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক করছে। বৈঠকে ব্যাংকগুলোর গৃহীত পরিকল্পনা মূল্যায়নের পাশাপাশি দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। কর্মপরিকল্পনা বিশ্লেষণের পাশাপাশি সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা হচ্ছে। বেশির ভাগ ব্যাংককে আগ্রাসী বিনিয়োগের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। চার-পাঁচটি ব্যাংককে বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এডি রেশিও সমন্বয়ে ব্যর্থ হলে সম্ভাব্য শাস্তির কথাও ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত দেশের অর্ধেকের বেশি ব্যাংকের এডিআর নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি রয়েছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে— বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।

তবে নতুন প্রজন্মের ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি গত বছর পুরো ব্যাংকিং খাতকেই নাড়িয়ে দেয়। এখন পর্যন্ত ব্যাংকটির এডিআর ১০৫ শতাংশের বেশি রয়েছে। অন্য নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকেরও এডিআর নির্ধারিত সীমার বেশি রয়েছে। এছাড়া এডি রেশিও সীমাতিরিক্ত রয়েছে কয়েকটি সাধারণ ধারার বেসরকারি ব্যাংকের ইসলামী উইংয়ের।

এডিআর সমন্বয়ের বিষয়ে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ঢাকা ব্যাংকের এডিআর নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনার জন্য পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলোও নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশা করছি, আগামী মার্চের মধ্যেই ব্যাংকগুলো এডিআর নতুন সীমায় নামিয়ে আনতে পারবে। তবে সুদহার কমিয়ে আনায় ব্যাংকগুলোকে আমানত সংগ্রহে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ৬ শতাংশ সুদে বাজারে আমানত পাওয়া যাচ্ছে না। এডিআর সমন্বয়ে ব্যাংকগুলোর জন্য এটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সাধারণ ব্যাংকগুলো তাদের মোট আমানতের ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো মোট আমানতের ৮৫ শতাংশ ঋণ দিতে পারে। আর্থিক অবস্থা ভালো হলে এতদিন সাধারণ ব্যাংকগুলো মোট আমানতের ৮৫ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো ৯০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে পারত। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিতে হতো। কিন্তু ২০১৭ সালে আগ্রাসী বিনিয়োগের কারণে দেশের বেশির ভাগ ব্যাংকের এডি রেশিও নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যায়। এতে ব্যাংকগুলোয় নগদ তারল্যের তীব্র সংকট দেখা দেয়। নতুন প্রজন্মের ফারমার্স ব্যাংক গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দিতে না পারলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। এ অবস্থায় চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি এডি রেশিও কমিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো আমানতের সর্বোচ্চ ৮৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো ৮৯ শতাংশ বিতরণ করতে পারবে। নতুন এডিআর সীমা সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকগুলোকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি এবং ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির দাবির মুখে এডিআর সময়সীমা পেছানো হয়। এক্ষেত্রে প্রথমে ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে তা ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে নতুন এডিআর সমন্বয়ের কার্যপরিকল্পনা জমা দেয়ার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। জমা দেয়া কার্যপরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক এডি রেশিও সীমাতিরিক্ত থাকা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করছে। এরই মধ্যে বেশির ভাগ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

বছরের শুরুতে এডি রেশিও বেশি থাকলেও এখন অনেকটাই কমে এসেছে বলে জানান মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনিস এ খান। তিনি বলেন, সতর্কতার সঙ্গে ব্যাংকের এডি রেশিও কমিয়ে আনা হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির চেয়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি অনেক কম। তার পরও আগামী মার্চের মধ্যেই এডিআর সীমা বিধিসম্মত মাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছি। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।সূত্র-বণিক বার্তা।

আরও পড়ুন: 

অর্ধেক ড্রাইভারের লাইসেন্স নেই: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.