Home আর্কাইভ ক্রিসেন্ট লেদারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ

ক্রিসেন্ট লেদারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ

Published:July 11, 2018
ক্রিসেন্ট লেদারের


Published: 15:29:58
405
0

ডেস্ক রিপোর্ট: ক্রিসেন্ট লেদারের রফতানির নামে ১ হাজার ১০৪ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রফতানির বিপরীতে অর্থ না আসায় তা পাচার হয়েছে ধরে নিয়ে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ অনুযায়ী এ তদন্ত শুরু করেছে এনবিআরের অধীন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বেশকিছু তথ্য-উপাত্ত এরই মধ্যে সংগ্রহ করেছে অধিদপ্তর। এখন ক্রিসেন্ট লেদার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, এনবিআরের নির্দেশনার আলোকে ক্রিসেন্ট লেদারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তে নেমেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। একটি কমিটি গঠন করে এ তদন্ত করছেন তারা। তদন্তের অংশ হিসেবে ব্যাংক থেকে ঋণগ্রহণ, বিদেশে পণ্য রফতানির জন্য বিল অব এন্ট্রি (এলসি), রফতানি আদেশ ও বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে অর্থ পাচারের প্রমাণও পেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শতাধিক ব্যক্তিকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরে ডাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ক্রিসেন্ট গ্রুপ ও জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কাস্টমসের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। মূলত রফতানি তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে কাস্টমস কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন শুল্ক গোয়েন্দারা। পাশাপাশি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের রফতানি আদেশ, পণ্য গ্রহণের তথ্য ও অর্থ পরিশোধ না করার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট দেশেও এজেন্ট নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক প্রতিবেদনের আলোকেই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এরই মধ্যে রফতানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা।

কাগজপত্রের প্রাথমিক পর্যালোচনায় রফতানির নামে অর্থ পাচার হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে এনবিআরের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ক্রিসেন্ট লেদারের অর্থ পাচারের অভিযোগের সঙ্গে দেশী-বিদেশী অনেক প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকায় তদন্তে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন অনুযায়ী, পণ্য রফতানির বিপরীতে জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিলেও দীর্ঘদিন ধরেই রফতানির টাকা দেশে আনছে না ক্রিসেন্ট গ্রুপ। নিজেদের গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকার ঋণ নিলেও রফতানি আদেশের বিপরীতে ফেরত আনা টাকার সমন্বয় দেখাতে পারেনি গ্রুপটি। ক্রিসেন্ট লেদারের মালিকানাধীন ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্ট, রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যারস, ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ, রিমেক্স ফুটওয়্যার ও লেক্সকো লিমিটেড নামের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে চীন, ইতালি, হংকং, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশে পণ্য রফতানি দেখানো হয়। এসব রফতানির বিপরীতে সৃষ্ট ফরেন ডকুমেন্টারি বিল ক্রয় (এফডিবিপি) করে জনতা ব্যাংক। রফতানির ১২০ দিনের মধ্যে এসব বিলের অর্থ ফেরত আনার নিয়ম থাকলেও ক্রিসেন্টের ক্ষেত্রে তা আসেনি।

রফতানির বিপরীতে জনতা ব্যাংক ৭০০-এর বেশি বিল কিনলেও ১ হাজার ১০৪ কোটি টাকা দেশে ফেরত আনার তথ্য পায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে গত এপ্রিলে জনতা ব্যাংক ১৪৭ কোটি টাকার দায় সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেখালেও বিভিন্ন তথ্য বিশ্নেষণ করে ব্যাংকের দেয়া এ তথ্য সঠিক নয় বলে জানতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে সমুদয় অর্থই বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি মানি লন্ডারিং আইনে তদন্ত করতে এনবিআরকে অনুরোধ জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ীই সম্প্রতি তদন্ত শুরু করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

জানা গেছে, ক্রিসেন্ট গ্রুপের রফতানি বিল (এফডিবিপি) ছিল জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ করপোরেট শাখায়। পাঁচ বছর ধরে ব্যাংকটি ক্রিসেন্ট গ্রুপের রফতানি বিল ক্রয় করে আসছে। এ সময়ের মধ্যে ক্রিসেন্ট গ্রুপ রফতানির অর্থ দেশে ফেরত না আনায় জনতা ব্যাংককে বিল ক্রয় করতে কয়েক দফা নিষেধাজ্ঞা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। উপরন্তু গ্রুপটিকে ধারাবাহিকভাবে ঋণ দিতে থাকায় ব্যাংকটির ২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে যায়। রফতানির অর্থ ফেরত না আসার পরও কেন ঋণ দেয়া হয়েছে এসব বিষয় তদন্তে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করবে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

এদিকে এনবিআরের পাশাপাশি ক্রিসেন্ট লেদারের অর্থ পাচারের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে বাংলাদেশ ব্যাংকও। ভুয়া রফতানি বিলের মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে ক্রিসেন্ট গ্রুপের নগদ সহায়তা নেয়া ৪০৮ কোটি ফিরিয়ে এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জনতা ব্যাংকের হিসাব থেকে এসব অর্থ কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি ব্যাংকটির ১০ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।সূত্র-বণিক বার্তা।

আরও পড়তে পারেন: 

রানার অটোমোবাইলসকে বিডিংয়ের অনুমতি
অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহী সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীরা

 

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.