Home অর্থ-বাণিজ্য বাড়ছে পাট ও ওষুধ রফতানি

বাড়ছে পাট ও ওষুধ রফতানি

পাট ও ওষুধ


Published: 12:41:45
109
0

ডেস্ক রিপোর্ট: পাট ও ওষুধ রফতানি আয় সন্তোষজনক। পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি আয় শত কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও গত অর্থবছরের থেকে ৬ শতাংশ রফতানি বেড়েছে। আর রফতানি আয়ের উদীয়মান খাত ওষুধ শিল্প। এ শিল্প দিন দিন প্রসার হচ্ছে। যা রফতানি আয়ে ভূমিকা রাখছে। গত অর্থবছরের চেয়েও ১৬ দশমিক ০৩ শতাংশ বেশি রফতানি বেড়েছে।
সদ্য সমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাট খাত থেকে আয় হয়েছে ১০২ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার। এটি তার আগের অর্থবছরের চেয়ে সাড়ে ৬ শতাংশ বেশি। তবে অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০৫ কোটি ৫০ লাখ। এটি মোট লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে। শতাংশের হারে ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তবে এই আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি আয় ছিল ৯৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার। এ হিসাবে আয় বেড়েছে ৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
ইপিবির তথ্য থেকে জানা যায়, গত অর্থবছরে কাঁচা পাট থেকে আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। পাট সুতা ও কু লী থেকে ৬৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এ ছাড়া ১২ কোটি ২৮ লাখ ডলারের পাটের বস্তা ও ব্যাগ রফতানি করা হয়েছে । পাটজাত অন্যান্য পণ্য থেকে রফতানি আয় হয়েছে ৯ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। দেশে বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে মোট ২২টি পাটকল চালু রয়েছে এবং বেসরকারি খাতে প্রায় ২০০ পাটকল আছে। এর বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও রফতানি করে খাকে। এ ছাড়া বেশ কিছু হস্ত শিল্পও রয়েছে রফতানির তালিকায়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান বলেন, পাটে নীতি সহায়তার পাশাপাশি পণ্য বৈচিত্র্যকরণে নগদ সহায়তা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু পণ্য উৎপাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণে আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। ফলে চাহিদা থাকার পরও পাট ও পাট পণ্য রফতানি করা যাচ্ছে না। বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে বাংলাদেশের পাট ও পাট পণ্যের চাহিদা রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, সরকার মানসম্মত পাট উৎপাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে ওষুধ রফতানিতে আয়ের প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশ। সদ্য সমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ওষুধ থেকে রফতানি আয় হয়েছে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এটি আগের বছরের চেয়ে ১৬ দশমিক ০৩ শতাংশ বেশি। টাকার পরিমাণে দাঁড়ায় এক কোটি ৪২ লাখ ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে আয় হয়েছিল আট কোটি ৯১ লাখ ডলার।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ওষুধ খাতে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে আয় হয়েছে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এটি মোট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আয় বেশি হয়েছে ৩৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদীয়মান শিল্পখাত হিসাবে ওষুধ রফতানিতে ছাড় দিচ্ছে সরকার। ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আমদানি বড় ধরনের শুল্ক ছাড় দেয়া হচ্ছে। আবার রফতানিতেও দেয়া হচ্ছে ভ্যাট ছাড়। ফলে ক্রমেই বাড়ছে ওষুধ রফতানি আয়।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ওষুধ রফতানি হয়েছে ৮৩৬ কোটি ৮২ লাখ টাকার। এর মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মা ১৫৭ কোটি ৫৬ লাখ, ইনসেপ্টা ফার্মা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ ও স্কয়ার ফার্মা ৭৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ওষুধ রফতানি করেছে। জানা গেছে, বাংলাদেশের ওষুধ এশিয়া মহাদেশের ৩৭, দক্ষিণ আমেরিকার ২১, আফ্রিকা মহাদেশের ৩৪, উত্তর আমেরিকার চার, ইউরোপের ২৬ ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের পাঁচটি দেশে নিয়মিত রফতানি হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ 

কম সুদে তহবিল জোগানের সিদ্ধান্ত মানছে না সরকারি ব্যাংক

প্রবাসী আয় বেড়ে ১৪৯৮ কোটি ডলার

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.