Home শিরোনাম ‘জিনের বাদশাকে’ বেধড়ক মারধর

    ‘জিনের বাদশাকে’ বেধড়ক মারধর

    Published:July 6, 2018


    Published: 19:37:18
    204
    0

    নিজস্ব প্রতিনিধি: বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় ‘জিনের বাদশা’ সেজে ভয়ভীতি দেখিয়ে শ্বশুরের জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আলতাফ হোসেনকে পিটিয়েছেন তার তিন শ্যালিকা।
    গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের লোদা শাপলা চত্ত্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    পরে আহত আলতাফকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় কয়েজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৩ সালে উপজেলার আমতলীর চাওড়া লোদা গ্রামের মোতাহার হোসেন আকনের মেয়ে রাহিমার সঙ্গে আলতাফের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আলতাফ হোসেন ‘জিনের বাদশা’ সেজে শ্বশুর বাড়িতে একটি পুকুরের মধ্যে শাপলা ও ময়ূরপঙ্খী চিহিৃত আস্তানা তৈরি করেন। ওই আস্তানায় বসে আলতাফ সাধারণ মানুষকে জিনের মাধ্যমে তাবিজ কবজ ও ঝাড় ফুঁক দিয়ে প্রতারণা করে থাকেন।

    ২০১৭ সালে শ্বশুর মোতাহার উদ্দিনকে জিনের ভয় দেখিয়ে ৭২ শতাংশ জমি স্ত্রী রাহিমার নামে লিখে নেন তিনি। একই বছরের নভেম্বর মাসে আলতাফের শ্বশুর মারা যান।

    ঘটনার দিন নাসিমা,পরী ও ডলি নামে আলতাফের তিন শ্যালিকা বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সন্ধ্যায় বাবার জমি নিয়ে আলতাফ ফকিকের সঙ্গে তিন শ্যালিকার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় এক পর্যায়ে আলতাফ তার শ্যালিকাদের মারধরের চেষ্টা করেন। পরে শ্যালিকারা ক্ষিপ্ত হয়ে আলতাফকে বেধড়ক মারধর করেন।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে স্থানীয়রা আলতাফকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, আলতাফ দীর্ঘদিন ধরে জিনের বাদশা সেজে মানুষের সাথে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিলেই জিনের ভয় দেখান। সাধারণ মানুষকে তাবিজ কবজের নামে ঝাঁড় ফুঁক দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, আলতাফ পুকুরে শাপলা ও ময়ূরপঙ্খী চিহিৃত আস্তানা তৈরি করেছেন। ওই আস্তানায় বসে মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন রকমের প্রতারণা করে থাকেন।
    আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জিনের বাদশা আলতাফ ফকিরের মাথায় আঘাত, বাম হাতের একটি আঙ্গুল ভাঙ্গাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান পিটিয়ে থেতলে দেওয়ার চিহৃ রয়েছে।

    আলতাফের শ্যালিকা নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমার বাবার ৭২ শতাংশ জমি জিনের ভয় দেখিয়ে দলিল করে নিয়েছে আলতাফ। ওই জমি নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে আলতাফ আমাদের তিন বোনকে মারধর করতে চেষ্টা করে। এ সময় আমরা তাকে প্রতিহত করেছি মাত্র।’

    নাসিমা বেগম আরও বলেন, ‘আমাদের মারধরের খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন জিনের বাদশাকে গণপিটুনি দিয়েছে।’

    এ বিষয়ে আলতাফ ফকির বলেন, ‘আমার শ্বশুর আমাকে জমি দলিল করে দিয়েছে। এই জমি ফেরত না দেওয়ায় আমাকে আমার শ্যালিকা ও ভায়রারা মারধর করেছে।’

    আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন মিলন বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    আরও পড়ুন: 
    মায়ের ওপর অভিমান করে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা!
    জলদস্যু চোরাকারবারী শুক্কুর চট্টগ্রামের এক ত্রাস