হোম সারাদেশ-টুকিটাকি জলদস্যু চোরাকারবারী শুক্কুর চট্টগ্রামের এক ত্রাস

    জলদস্যু চোরাকারবারী শুক্কুর চট্টগ্রামের এক ত্রাস

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 5:53 pm
    624
    0

     জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো: দিনের আলো কিংবা রাতের আধারে সরকারী পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ বহু কোম্পানীর তেল চুরি হচ্ছে। আর এসব তেল চুরির সাথে যারা জড়িত তাদের অনেকেই গড়ে তোলেছেন সম্পদের পাহাড়।

    চট্টগ্রাম র্কণফুলীর বিভিন্ন ঘাট ও ডিপো পরিদর্শন করে ওঠে এসেছে এসব তথ্য । স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর এভাবেই লোপাট করা হচ্ছে সরকারী সম্পদ। তাদেরই একজন তেল চোর চক্রের মাফিয়া কিং কর্ণফুলী জুলধা ইউনিয়নের ৭নং পাইপের গোড়া এলাকার আব্দু শুক্কুর (৪০) প্রকাশ জলদস্যু ডাকাত শুক্কুর। বহু নামে যার পরিচয়।

    Spellbit Limited

    জানা যায়, চোরাকারবারী শুক্কুর কয়েক বছর আগেও ছিলো অর্থের ভিখারী। মেষ চরাতেন যুবক বয়সে জুলধার হাশেম মেম্বারের । এক সময় পরিচয় হয় চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের নামকরা জলদস্যু ডাকাত আবুল কালামের সাথে। হাত মিলিয়ে নেমে পড়ে নদী পথে জলদস্যুতায়। জাহাজের রশি কাঁটা দিয়ে ডাকাতির হাতেখঁড়ি বলে জানা যায়।

    তথ্য রয়েছে, ২০০৫ সালের পুর্বে সন্দীপ চ্যানেলে ডাকাতি ও কর্ণফুলী নদীতে জলদস্যুতা চালিয়ে বনে যায় নামকরা ডাকাত। দিন দুপুরে মানুষকে জিম্মি, খুন ও ধর্ষণ ছিলো যার পেশা।
    যাকে অনেকে চিনে মাদারি শুক্কুর, ডাকাত শুক্কুর ও জলদস্যু ত্রাস শুক্কুর নামে। যার নামের পাশে নতুন বিশেষণ চোরাকারবারী তেল চোর শুক্কুর। কর্ণফুলী নদীতে যার একচেটিয়া রাজত্ব এখন।
    ১৯৯৬ সালে তার প্রথম বসতিবাড়ি ডাকাতির খবর জানা যায়। বড়উঠোন ইউপির শাহমিরপুর গ্রামের পল্লী ডাক্তার রনধীর বড়ুয়ার বাড়ি ডাকাতি করে সে ও তার বাহিনী।

    বাড়ির সম্পদ লুট করে নিয়ে আসার সময়। মেয়েকে ধর্ষণ করার ঘটনা ও ঘটিয়েছিলেন তিনি। কি নির্মম ডাকাত সে। যার ভয়ে কেহ সাহস করেনা এখনো এলাকায়।
    জলদস্যুতা থেকে মোড়ল পাল্টে তিনি আজ তেল ব্যবসায়ী সেঁজেছে। সামান্য ডিজেল, কেরোসিন ব্যবসার গ্রাম্য লাইসেন্স নিয়ে কৌশলে নদীতে থাকা জাহাজ ও ডিপো হতে প্রতিদিন অর্ধলক্ষ লিটার তেল চুরি করছে।

    এমন কি বিভিন্ন মাদক,বিয়ারসহ বিদেশি চোরাই পণ্য খালাস করা যার নিত্য দিনের কারবার। গড়ে ওঠেছে তার একটি বাহিনী ও বড় সিন্ডিকেট। যার কোন সুনির্দিষ্ট বৈধ ব্যবসা না থাকলেও দিনে দিনে বনে যায় বিপুল বিত্ত সম্পদের মালিক। দুদকের মতো শক্তিশালী সংস্থাও যার নাগাল পায়নি।

    গোপন সংবাদে জানা যায়, কর্ণফুলি জুলধা ইউনিয়নের পাইপের গোড়া বাজারে কানু মাঝির পুকুর ভরাট করে তৈরী করে তিন তলা মার্কেট। ঐ পুকুরের উত্তর পাশে মাটির নিচে একটি চোরা তেলের ডিপো স্থাপন করে। পশ্চিম পাশে কানু মাঝির বাড়ির নিকটে আরেকটি দ্বিতল আলিশান বাড়ি তার। যার ২০০ গজ উত্তরে ওবায়দুল হাকিমের পুরাতন বসত বাড়িতে দ্বিতীয় দুতলা বিদেশী স্টাইলের চমকপ্রত অন্য বাড়ি। এছাড়াও ৩২ খানি সমমান ৬৪০ গন্ডা জমি যার তলিতে। সম্পদের আনুমানিক মুল্য প্রায় কোটি কোটি টাকা।

    জুলধা এলাকার আব্দুল জলিল জানায়, তার গড়ে উঠা খুলনার কুখ্যাত ডাকাত এরশাদ সিকদারের চেয়েও ভয়ংকর। যার বিরুদ্ধে ভয়ে কেহ সহজে মুখ খোলেনা। প্রতিটি ঘাটে ঘাটে প্রশাসন তার পকেটে। ক্ষমতাসীন দলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার কয়েকজন নেতা ও প্রশাসনের মাসিক চাদার পরিমানও নাকি তার ১৫ লক্ষ।

    শহরের আগ্রাবাদের কয়েকটি হোটেলে ক্ষমতাসীন দলের পদে থাকা নেতাদের নিয়ে তার বিলাসি আড্ডা হয়। ফাঁকে মাসোয়ারা হিসাব ও মিটিয়ে নেয় বলে জানা যায়। যার একটি অংশ নগরীর প্রভাবশালী এক নেতা, বন্দর এলাকা, ইপিজেড এলাকা, কর্ণফুলী এলাকার স্থানীয় প্রশাসন ও ফাঁড়ি এবং অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে যায় বলে রফিক মাঝির দাবি।

    অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, কর্ণফুলী নদীর ৯নং ঘাট দিয়ে এখনো রাতে কিংবা দিনে জলদস্যু শুক্কুর তার চোরাকারবারি ব্যবসা চালাচ্ছেন। সাথে মাদক সহ নানা জাহাজী পণ্য চুরি করে ক্ষতি করছে সরকারের।

    স্থানীয়রা জানান,জলদস্যু ও চোরাকারবারী শুক্কুর নাকি নিজ মুখে বলে থাকেন প্রশাসন তার পকেটে। বলারও কথা, কেননা কোন প্রশাসন এখনো তার লোমও কাটতে পারেনি। নিজের ছেলে মনির আহম্মেদ তার সব অপকর্মের রাজস্বাক্ষী। যার রয়েছে নিজস্ব আরেক বাহিনী। যেখানে রয়েছে তাহের ও কায়সার নামে দুর্ধর্ষ কিছু চোরাকারবারিও মাদক ব্যবসায়ী।
    সুত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালেও কর্ণফুলী নদীর ১৪নং ঘাট দিয়ে ডাকাত শুক্কুরের ছিলো ইয়াবা ব্যবসার জমজমাট শেয়ার ব্যবসা। যার ৫০% অংশ ছিলো জাফর আহমেদ নামে আরেক কারবারীর। যিনি কয়েক বছর আগে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন। পরে শুক্কুর নিজেই তার ব্যবসা পাতে। বন্দরের ১৮নং ঘাটে তার রয়েছে নিজস্ব দুটি স্পীডবোট। এসব যানবাহনে করে তেল ও মাদক পাচারের সহায়তায় ব্যবহার করছে।

    আলোচিত এই ব্যাক্তির কোন রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলেও, যে দল ক্ষমতায় আসে তার নাম ভাঙ্গিয়ে গড়ে তোলে তার রাজত¦ আর বলয়। নিভর্রশীল সুত্র জানায়, যে দল ক্ষমতায় থাকে সে দলের ব্যানারে গিয়ে স্থানীয় নেতাদের আতাঁত করেন তিনি।

    তিনি বলে থাকেন, এমপি মন্ত্রী,প্রশাসন নাকি কিনে পেলেছে এবং সে নাকি টাকা বানায়। তার এসব অপকর্ম ও চোরাকারবারি মাফিয়া চক্রের অন্যতম সদস্য হলেন, মোঃ ইউনুস, মোঃ ইলিয়াছ, আলি আহমেদ, সেলিম, জানে আলম, সোর্স মোঃ জহুর, সোর্স মোঃ ইউসুফ, মোঃ জাফর মনির আহমেদ, তাহের, কায়সার ,আব্দুল মন্নান, মোঃ মুছা, মোঃ হাসান, মোঃ ইসমাঈল প্রমূখ। এরা সকলে জুলধা ইউনিয়ন ও কর্ণফুলী এলাকার বলে জানা যায়।

    তার বিরুদ্ধে থানায় রয়েছে একাধিক মামলা, অভিযোগ ও জিডি। যার কোন ব্যবস্থা নেয়নি থানা পুলিশও। যার মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চাদাঁবাজি মামলা সিআর ৪৪/১৭,বন্দর থানার জিআর মামলা নং ২১৫৫/৯৬ ইং,পটিয়া থানায় ০১/৯৬ইং, কর্ণফুলী থানার জিআর মামলা নং ১০/২০০২ইং, স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল মামলা নং ১২২/আদেশ নং ১৫ ,কর্নফুলী থানার মামলা নং ০১/২০০৯ইং ,বন্দর থানা মামলা নং ২২/৯৬ইং।

    এছাড়া হত্যা ও হুমকিতে তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে ১৮ ডিসেম্বর করা কর্ণফুলি থানায় পিপিআর নং ১৬২৭, জিডি ও অভিযোগ ২২/৯৬ইং, ১৭৮১/১৬ইং, পতেঙ্গা থানার পিপিআর নং ২১৯৩,২০১৭ সালের ৯ মার্চ পিপিআর নং ৩৬০/১৭ইং। নিজের আপন ভাইও ২০১৬ সালে কারবারি শুক্কুরের বিরুদ্ধে জিডি করে কর্ণফুলী থানায় যার পিপিআর নং ১৭৮১।

    এছাড়াও ১৯৯৩ সালে চরলক্ষ্যায় আলিম উদ্দিনের বাড়িতে ডাকাতি করতে গেলে অস্ত্র সহ ধরা পড়ে এই ডাকাত শুক্কুর। ঐ অস্ত্র মামলা ও ডাকাতি মামলায় ১০ বছরের সাজা হয়। কিন্তু প্রকাশ্যে ঘুরে পুলিশের নাকের ডগায়।

    ২০০৫ সালের দিকে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে স্থ্ানীয় এক রিক্সাচালক খুন হয়। এতে জড়িত ছিলেন শুক্কুর। যে মামলার চার্জশীটে নিজের পিতার নাম পরিবর্তন করে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। ২০০৮ সালে কর্নফুলীর ডায়মন্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর পাশে শুক্কুরের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত সয়াবিন তেল উদ্ধার করে যৌথবাহিনী। যা চোরাচালান আইনে শুক্কুরের বিরুদ্ধে মামলা হয় কর্নফুলী থানায়। যা আদালতে মামলা চলমান।

    ২০০৯ সালে শুক্কুর ডাকাত জুলধা ইউনিয়নের মাতব্বরঘাটে আবুল এন্ড সন্স নামের তেলের দোকানে ডাকাতি করে। আবুল বশর বাদী হয়ে কর্ণফুলি থানায় মামলা করে। বর্তমানে ঐ মামলা ও বিচারাধীন বলে জানা যায়। এ রকম ডজন খানিক আলোচিত মামলা যার ঝুঁলিতে হলেও সে কি করে প্রকাশ্যে জনসম¥ুখে ও প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে তা জনগণকে ভাবিয়ে তুলেছে।
    তথ্য এসেছে, ডাকাত শুক্কুর হতে মুক্তি পেতে স্থানীয় নিরিহ শ্রমিকের সংগঠন “পতেঙ্গা তেলের ট্যাংকার কর্মচারী পারাপার সাম্পান শ্রমিক ইউনিয়ন-২৩৭৯- রেজিঃ) ডাঙ্গারচর, জুলধা ইউনিয়নের শতাধিক জনগণ স্থানীয় সাংসদ ভূপ্রতিমন্ত্রীকেও লিখিত আবেদন জানিয়েছিলো। তারপরেও সুরাহা হয়নি কতিপয় নেতাদের সাথে দহরম মহরমে থাকায়।

    উল্টো সাগর পথে ও দেশের বিখ্যাত সব তৈল কোম্পানি পদ্মা,মেঘনা,যমুনা অয়েল কোম্পানির সমস্ত ঘাটে তার রমরমা অবৈধ ব্যবসা বলবৎ রয়েছে। যা কিছুদিন আগে যমুনা টেলিভিশনের ৩৬০ডিগ্রি অনুষ্ঠানে দেখানো হয়। যার ভিডিও ফুটেজও সামাজিক সাইটে ভাইরাল হয়।

    তথ্যমতে আরো জানা যায়,কর্ণফুলী জুলধা ইউনিয়নের ডাঙ্গারচর ৯নং ঘাট শুক্কুরের চোরাকারবারের প্রধান আস্তানা। পদ্মা, মেঘনা, যমুনার তেলের পাইপ ছিদ্র করে প্রতিদিন রাতে শুক্কুর বিপুল পরিমাণ তেল ৯নং ঘাটে মজুদ করে।

    মুলত পদ্মা, মেঘনা, যমুনার নাইট গার্ড ও কর্মচারীদের হাত করে এসব কাজ করেন তিনি। এমনকি দেশীয় তেলের লাইটারেজ জাহাজ এবং বিদেশি তেলের জাহাজ হতেও টলি যোগে চোরাই তেল মজুদ করে কানু মাঝির পুকুর পাড়ের গোপন তেলের ডিপোতে। যা পটিয়ার শান্তিরহাট এলাকার ছবুর সওদাগর এবং পটিয়ার শাহ আলম ও কর্ণফুলী এলাকার বিভিন্ন তেলের দোকানে বিক্রি করে।

    বর্তমানে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল সংগ্রহ ও পাচার করা শুক্কুরের অন্যতম প্রধান ব্যবসা। অপরিশোধিত সয়াবিন তেলকে স্থানীয় ভাষায় পিলাই তেল হিসেবে চিনে।
    যে সব জাহাজ হতে চোরাকারবারী শুক্কুর তেল চুরি করে তার তালিকায় রয়েছেন, রবিন জাহাজ, রাজা শাহ্ সিটি জাহাজ,শবনম ২,৩,৪, সিটি ৪,৭, ৯,ফ্রেশ ১৬,১৮,১৯,৩১,পদ্মা ১৩,১৪,১৫,যমুনা ১৩,১৪,১৫,১৭ পিউপলস ১,পিউপলস ২ ইত্যাদি।

    প্রচলিত রয়েছে নির্বিঘেœ এই চোরকারবারী ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ক্ষমতাসীন নেতা ও প্রশাসনের অনেক কে বিলাস বহূল গাড়ি, দামি জিপ,ল্যাপটপ, আইফোন গাড়ি কিনে দেয় বলে কানাঘোষা রয়েছে। শিপন, ফরিদ,সায়েম,আওয়ামিন,আসলাম ও বারেক নামে কিছু ব্যক্তি মাস শেষে ম্যানেজ মানিও নিতে আসে বলে তথ্য পাওয়া যায়।

    আমাদের অনুুসন্ধানী প্রতিবেদনে একটি তথ্য পাওয়া যায়, জলদস্যু ডাকাত বার বার স্থানীয় সাংসদ ভুমিপ্রতিমন্ত্রী জাবেদের সংস্পর্শ পেতে চাইলেও মন্ত্রী এসব বিতর্কিতদের প্রশ্রয় দেয়নি। কেননা স্থানীয় সংসদ সদস্য কখনো দুর্নীতিবাজ, অবৈধ চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সব সময় এড়িয়ে যেতেন।

    যদি ও ২০১৪ সালে ভুমিপ্রতিমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দেন কর্ণফুলী এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতারা। তাঁরা সকলে ডাকাত শুক্কুরের পক্ষে সাপাই শুনিয়েছিল মন্ত্রীকে। এবং জুলধা এলাকার ৫শত জাহাজ শ্রমিকের কাজ সাবেক প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন ভাগিয়ে নিচ্ছে বলে।

    যা তথ্যগত ভুল বুঝিয়ে পুনরায় কর্ণফুলী নদীর রাম রাজত্ব চলে আসে শুক্কুরের হাতে। সে শ্রমিকের কাজের বিনিময়ে উল্টো মামলা দিতে শুরু করে এমন অভিযোগ রয়েছে।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দু শুক্কুর বলেন,“এসব অভিযোগ সর্ম্পুণ মিথ্যা। জায়গা জমির বিষয়ে আমার ভাইদেও সাথে মামলা মোকদ্দমা হওয়ায় তাঁরা আমার বিরুদ্ধে এসব করছে। আমার লাইসেন্স আছে। আমি একজন তেল ব্যবসায়ী।”

    এদিকে এলাকাবাসী অভিযোগে জানায়, এই ডাকাত শুক্কুর আজ জিরো হতে হিরো। অবৈধ চোরাকারি করে বিপুল সম্পত্তির মালিক ও বিলাসবহুল কয়েকটি বাড়িসহ বহু জমিজামার দখল বানিজ্য করে টাকার কুমির বনে যায়।

    জুলধার এলাকার রফিক মাঝি বলেন, “চোরকারবারী শুক্কুরের কোন বৈধ ব্যবসা নেই। ঘাট ঘাটে টাকা পয়সা দিয়ে দিনে ১০ লাখ টাকার সরকারী তেল চুরি করে। যা প্রশাসন দেখেও দেখছেনা। আমরা সমিতির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিখিত অভিযোগ করছি। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকে জানাবো কিভাবে সরকারী তেল চুরি করছে”।

    ওয়ান্টেট জলদস্যু মাদারি শুক্কুরের কাছে এলাকার ৩৫ হাজার সাধারণ মানুষ জিম্মি রয়েছে। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কেহ মুখ খুল্লে বা লিখলে তাকে নানা মামলা হামলার ভয় দেখায় সে। যেন এক নব্য এরশাদ সিকদার। যে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চট্টগ্রামের সম্পুর্ন চোরাচালান ব্যবসা।

    মাদকের এক নয়া মাফিয়া ডন সে। যার রাজত্ব কায়েম চলছে কর্ণফুলী সহ চট্টগ্রাম শহরে। গড়ে তোলেছেন টাকার পাহাড়। ধরাকে সরা জ্ঞান করে। কিছু প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে।

    এ বিষয়ে কর্ণফুলী জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) সৈয়দ মোঃ আবু সায়েম বলেন, “যত বড় মোস্ট ওয়ান্টেট কিংবা প্রভাবশালী হোক আমাদের সঠিক তথ্য প্রমাণ দিন। ওয়ারেন্ট থাকলে এসব চোরকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করার দায়িত্ব আমার”। তিনি আরো জানান কর্ণফুলীতে অভিযান চলছে দ্রুত মাদকারবারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রয়োজনে যোগাযোগ:
    কর্ণফুলি জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এডিসি মোঃ জাহেদুল হক ০১৭৬৯৬৯৪২২৬
    কর্ণফুলি উপজেলা চেয়ারম্যান ০১৭১১৫৩৫৩৪৮

    আরও পড়ুন:

    গোপালগঞ্জে দোকান ঘর ও জমি দখলের জন্য হামলায় কলেজ ছাত্রী আহত

    টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলীর শ্রদ্ধা

    সিরাজগঞ্জে পাটক্ষেত থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার