26 C
Dhaka
এপ্রিল ৭, ২০২০
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
আর্কাইভ স্বাস্থ্য-লাইফস্টাইল

শীতকালে গলাব্যথা বা খুসখুসে কাশি হলে করণীয়

Golabetha

শীতকালে অনেকের ঠাণ্ডার সমস্যাসহ গলা ব্যথা কিংবা খুসখুসে কাশির প্রবণতা দেখা দেয়। এটি আমাদের শরীরে অস্বস্তি তৈরি করে। ফলে যেকোনো খাবার বা পানীয় খেতেও সমস্যা হয়, ঢোক গিলতে কষ্ট হয়।  যন্ত্রণাদায়ক এ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হলে যা করতে হবে:

১. লবণ পানি: এক চা চামচের অর্ধেক কিংবা এক-চতুর্থাংশ লবণ ৮ আউন্স উষ্ণ গরম পানিতে মিশিয়ে ১ কিংবা ২ ঘণ্টা পর গার্গল করুন। দূর হয়ে যাবে গলার অস্বস্তি।

২. পান করুন ঠাণ্ডা তরল: ঠাণ্ডা-গরম লেগে গলাভাঙা বা গলা বসে গেলে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পানির মধ্যে কয়েক টুকরো বরফ ফেলে দিন। এর পর তা পান করুন। শুরুতে কাশির দমক বেড়ে গেলেও এটি গলাব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

৩. ভাজাপোড়া থেকে দূরে: এমন কিছু খাবার রয়েছে যা খেলে এর প্রকোপ বেড়ে যাবে। বিশেষ করে সোডা পানি, ভাজাপোড়া, টক-জাতীয় ফল যেমন লেবু, কমলা। তাছাড়া রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কোনো ধরনের ফল না খাওয়াই ভালো।

৪. অ্যান্টাসিড গ্রহণ: গলাব্যথা বা গলাদাহ প্রশমিত করতে অ্যান্টাসিড খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা। এতে হয়তো গলার অস্বস্তি একদম সেরে যাবে না, তবে সাময়িক আরাম মিলবে।

৫. হলুদ চা: হলুদ প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। শরীরের কোনো অংশে ব্যথা পেলে বিশেষ করে পা মচকে গেলে হলুদ লাগানোর ঘরোয়া প্রচলন রয়েছে। ক্যান্সার থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের নানা রোগ প্রতিরোধ করে এ উপাদান। হলুদে বিদ্যমান অ্যান্টি-ইনফ্লামেশন গলার প্রদাহ উপশমে উপকারী। তাই গরম চায়ের মধ্যে হলুদের কয়েকটি টুকরা কিংবা কয়েক ফোঁটা হলুদের রস মিশিয়ে পান করতে পারেন। একই সঙ্গে উষ্ণ লবণ পানিতে গার্গল করার সময়ও মিশিয়ে নিতে পারেন কয়েক ফোঁটা হলুদ।

৬. মধু: মধু তার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্য পরিচিত। এটি প্রাচীনকাল থেকেই গলা ব্যথা নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। এক কাপ গরম পানিতে এক থেকে দুই চামচ মধু মেশান এবং দিনে দুই থেকে তিনবার পান করুন অথবা ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনি এক চা চামচ মধু খেতে পারেন।

৭. দারুচিনি: কয়েক ফোঁটা দারুচিনি তেলের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশ্রিত করুন। দিনে একবার এটি ব্যবহার করুন, গলার ব্যথা থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে সহায়তা করে।

৮. আদা: অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের জন্য গলা ব্যথা ভালো করতে সহায়তা করে আদা। পানি গরম করে তাতে কয়েক টুকরো ফ্রেশ আদা দিন। এরপর এটি প্রায় ৫-১০ মিনিটের জন্য ফোটান। দিনে কমপক্ষে দুবার এই পানি পান করুন। এতে এক চা চামচ মধুও যোগ করতে পারেন।

৯. লেবুর রস: বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবু আমাদের শরীরের টক্সিন দূর করার ক্ষেত্রে খুব উপকারি। তাই গলা ব্যথায় এক গ্লাস গরম পানি লেবুর রস ও এক চা চামচ মধু ভালোভাবে মেশান। দিনে অন্তত দুবার এটি পান করুন। গলা ব্যথা ও টনসিলের সমস্যা দূর করতে এটি সাহায্য করে।

১০. রসুন: রসুন অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত এবং গলা ব্যথা নিরাময়ে সহায়তা করে। রসুনের মধ্যে থাকা অ্যালিসিন গলা ব্যথার কারণ ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে সহায়তা করে। এটি কাঁচাও খাওয়া যায় এবং রান্না করেও খাওয়া যায়।

১১. লবঙ্গ: মাঝে মাঝেই মুখে দুটি লবঙ্গ রাখুন এবং সেগুলো নরম হওয়ার পর চিবিয়ে গিলে ফেলুন। এটি কার্যকরভাবে গলা ব্যথা নিরাময়ে সহায়তা করে।

১২. বিশ্রাম নিন: ক্লান্ত, অবসন্ন শরীর মানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনারও শ্লথগতি। তাই যেকোনো অসুস্থতায় প্রয়োজন বিশ্রাম। গলাব্যথা বা খুসখুসে কাশিকে উপেক্ষা না করে সময় নিয়ে বিশ্রাম নিন। শরীর আপনা আপনি সেরে উঠবে। তবে এ-জাতীয় সমস্যার স্থায়িত্ব ৪৮ ঘণ্টার বেশি হলে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।


আরো খবর »

স্টক একচেঞ্জ বন্ধ থাকায় বিপাকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা

Tanvina

করোনাভাইরাস: সুস্থ হয়ে উঠা রোগীর রক্ত যেভাবে অন্যদের বাঁচাতে পারে

উজ্জ্বল

অঘোষিত লকডাউন রাজশাহী শহরে

*