Corporate Sangbad
জাতীয়

শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে অস্থিতিশীলতার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ন ·

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো মহল শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ নেই। 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সারাদেশের চিংড়ি ঘের নিয়ে আয়োজিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক নেই। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। কোনো কোনো মহল নিজেদের রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। সরকার এ ধরনের অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করবে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে যেসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো পূরণের বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেখানে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে আলোচনা ও দর-কষাকষির মাধ্যমে মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গার্মেন্টস ও বিকেএমইএ-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রায় সব নেতার সঙ্গে সরকার কথা বলেছে। মালিকপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় সংশ্লিষ্ট সবাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এখন মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য সহায়ক এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর হয়- এমন একটি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হবে।

গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ রাখা এবং শ্রমিকদের সড়কে অবস্থান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান করছেন। এসব কারখানা দ্রুত খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী হামলা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করার চেষ্টা করতে পারে।

তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পথ খোলা রয়েছে। এ অবস্থায় শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত করা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তিনি আরও বলেন, অতীতের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কোনো মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে সরকার মনে করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখা- সব বিষয়ই সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার যেমন সচেষ্ট, তেমনি শিল্প খাতে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টাও বরদাশত করা হবে না।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি পূরণে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। তাই কোনো মহল যেন শ্রমিকদের আবেগ ও অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।