Corporate Sangbad
বিনোদন

না ফেরার দেশে অভিনেত্রী নাসিমা খান

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন · বিনোদন ডেস্ক

চলে গেলেন বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের দাপুটে ও বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নাসিমা খান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

নাসিমা খানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান।

তিনি জানান, নাসিমা খান শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই অভিনেত্রী। দেশ ও দেশের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তিনি আরো বলেন, সর্বশেষ শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে এসেছিলেন নাসিমা খান। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকলেও তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরেই তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গুণী এই অভিনেত্রীর প্রয়াণে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামের উকিলবাড়ি। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান। দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ ভারতের ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে লালবাগে বাড়ি করে সেখানেই বসবাস শুরু করে তাদের পরিবার।

নাসিমা খানের চলচ্চিত্রে আসার পেছনে অভিনেতা আনিসের ভূমিকা ছিল। তখন ঢাকার চলচ্চিত্রে সুলতানা জামান, রওশন আরা, সুমিতা দেবী ও চিত্রা সিনহার মতো অভিনেত্রীরা পরিচিত মুখ। নাসিমাদের বাড়ির কাছাকাছি থাকতেন অভিনেতা আনিস, যিনি খান আতা নামেও পরিচিত। নাসিমার বাবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। একসময় আনিসই নাসিমার বাবাকে মেয়েকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি ছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অন্যতম পথপ্রদর্শক অভিনেত্রী। ১৯৫৯ সালে বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র ‘জাগো হুয়া সাভেরা’র মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপর ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রে একক নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেই দর্শকদের বিপুল ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তা কুড়ান তিনি।

ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে বাংলা ও উর্দু দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন নাসিমা খান। তাঁর ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে— ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ এবং ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।

অভিনয়জীবনে তিনি আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, মুস্তফা, আজিম ও হারুনের মতো তৎকালীন কিংবদন্তি অভিনেতাদের বিপরীতে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায় তাঁকে শেষবারের মতো বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল।

নাসিমা খানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সূচনাকালের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটল।