ঝুঁকি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর ও শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে পরিপালনের প্রত্যয় নিয়ে এনসিসি ব্যাংক এর বাৎসরিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্মেলন-২০২৬ সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল “দ্যা চেঞ্জিং ল্যান্ডস্কেপ অব রিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্র্যাকটিস ইন ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রিস”।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মজিবুর রহমান শেখ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম.শামসুল আরেফিন এর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট (বিএসডি-০৪) এর পরিচালক দিপ্তী রানী হাজরা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এনসিসি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা এম. খোরশেদ আলম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এসময়, এনসিসি ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিএফও মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট (বিএসডি-০৪) এর যুগ্ম পরিচালক মোঃ আলমগীর হোসেন, এনসিসি ব্যাংকের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান সাইফ আলম এবং ইনফরমেশন সিকিউরিটি ও আই গর্ভরনেন্স এর প্রধান মোঃ মিজানুর রহমান বিশ্লেষণ ধর্মী আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে, প্রধান কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানগণ, বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপকবৃন্দসহ অন্যান্য শীর্ষ নির্বাহীবৃন্দ এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের এর কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, ব্যাংকের অন্যান্য শাখার ব্যবস্থাপক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ডিজিটাল প্লাটফর্মে যুক্ত হন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মজিবুর রহমান শেখ বলেন, ব্যাংকিং কার্যক্রমের প্রতিটি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী, সুশৃঙ্খল ও টেকসই কার্যক্রম নিশ্চিত করতে কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, এআই ও সাইবার ঝুঁকি, ঋণ ঝুঁকি, তারল্য ঝুঁকি ও পরিচালনাগত ঝুঁকিসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি যথাযথভাবে চিহ্নিত, মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংশিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সময়োপযোগী সম্মেলন আয়োজনের জন্য এনসিসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম.শামসুল আরেফিন বলেন, এনসিসি ব্যাংক সর্বদাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী “রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কালচার” প্রতিষ্ঠা করতে হলে ব্যাংকের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। তিনি সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত, মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক, দায়িত্বশীল ও সমন্বনিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে পরামর্শ দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট (বিএসডি-০৪)-এর পরিচালক দিপ্তী রানী হাজরা বলেন, শুধু ঝুঁকি চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নয়; ঝুঁকির সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করে সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত নির্দেশনা ও নীতিমালা যথাযথভাবে পরিপালনের পাশাপাশি ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সুশাসন কাঠামো আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এনসিসি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা এম. খোরশেদ আলম ব্যাংকের প্রধান ঝুঁকিসমূহ, বর্তমান ব্যাংকিং পরিবেশে উদ্ভূত বিভিন্ন ঝুঁকির চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কার্যকর অনুশীলন বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করেন। তিনি সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, মূল্যায়ন, পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।