Corporate Sangbad
কর্পোরেট

বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে পেশাজীবী সংস্থাগুলোর যৌথ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ন ·

বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের শিক্ষা, সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সিকিউরিটিজ কমিশনস’ (IOSCO) ৫ থেকে ১১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দশম বার্ষিক ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’ পালন করছে।

আইওএসকোর এই উদ্যোগের সাথে সংহতি জানিয়ে, বাংলাদেশের বিভিন্ন পেশাজীবী সংস্থা—ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ ( আইসিএবি), ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএমএবি), ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অফ বাংলাদেশ (আইসিএসবি), ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ (আইআইএবি) এবং অ্যাসোসিয়েশন অফ চার্টার্ড সার্টিফাইড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (এসিসিএ)—যৌথভাবে একটি কনফারে্রন্সের আয়োজন করে। 

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সিএ ভবনে অবস্থিত আইসিএবি মিলনায়তনে “বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি: নিরীক্ষা, প্রতিবেদন প্রণয়ন, সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পেশাজীবী সংস্থাগুলোর ভূমিকা” শীর্ষক এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে মানসম্মত আর্থিক প্রতিবেদন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং পেশাগত জবাবদিহিতার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ়করণে পেশাজীবী সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা হয়, যা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখছে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইসিএবিএর প্রেসিডেন্ট সাব্বীর আহমেদ এফসিএ এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন আইসিএমএবি এর প্রেসিডেন্ট কাউসার আলম এফসিএমএ। এছাড়া প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন এসিসিএ’র কান্ট্রি ম্যানেজার প্রমা খান এফসিসিএ, আইআইএবি এর প্রেসিডেন্ট এম. নুরুল আলম এফসিএস এবং আইসিএসবি এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান এফসিএস।

অনুষ্ঠানটিতে আইওএসকো বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬-এর মূল বিষয়বস্তু—যেমন বিনিয়োগকারীদের সক্ষমতা (Resilience), ডিজিটাল প্রতারণা ও জালিয়াতি বিষয়ক সতর্কতা—এবং এর পাশাপাশি বিনিয়োগের মৌলিক বিষয় ও তরুণ বিনিয়োগকারী ও পরবর্তী প্রজন্ম বিষয়ক শিক্ষামূলক অগ্রাধিকারগুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়। আলোচনাগুলোতে ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উদ্ভূত ঝুঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে তাদের জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আইসিএবি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফুর রহমান এফসিএ "বিল্ডিং ইনভেস্টর রেজিলিয়েন্স: আইসিএবির  রোল ইন রিপোর্টিং, গভর্ন্যান্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট" (বিনিয়োগকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি: প্রতিবেদন প্রণয়ন, সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আইসিএবি-র ভূমিকা) শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

উপস্থাপনায় তিনি আর্থিক প্রতিবেদন-সংক্রান্ত কাঠামোর পারস্পরিক দায়িত্বগুলোর ওপর আলোকপাত করেন: ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আর্থিক তথ্য প্রস্তুত করে, পরিচালনা পর্ষদ তদারকি করে এবং নিরীক্ষকরা নিরপেক্ষ নিশ্চয়তা প্রদান করেন। তিনি বাজারের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে শক্তিশালী সুশাসন ও নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এছাড়া তিনি সহযোগিতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে আইসিএবি-র বিদ্যমান উদ্যোগগুলোও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও সত্যতা নিশ্চিত করতে ডিভিএস ভিত্তিক আর্থিক প্রতিবেদন যাচাইকরণ; ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় (এরজেএসসি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে সমঝোতা স্মারক (MoU) ও সহযোগিতা; আইসিএমএবি, আইসিএসবি, এসিসিএ ও আইআইএবি এর সাথে পেশাগত উন্নয়ন ও জ্ঞান বিনিময়ের উদ্যোগ; এবং প্রতিবেদন যাচাইকরণ ও স্বচ্ছ আর্থিক যোগাযোগের বিষয়ে সদস্যদের জন্য যৌথ নির্দেশিকা প্রদান।

আইসিএমএবি এর কাউন্সিল সদস্য আরিফ খান এফসিএমএ "তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে করপোরেট আস্থা পুনরুদ্ধার" বিষয়ক আরও একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চ্যালেঞ্জসমূহ, বিশেষ করে ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে আইপিও অনুমোদনের দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। 

উপস্থাপনায় নতুন তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে কম মূল্যায়ন (valuation), দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত নথিপত্রের বাধ্যবাধকতা, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের দুর্বল আস্থাকে চিহ্নিত করা হয়। ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, পূর্বাভাসযোগ্য নীতিমালা, বাজার-ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ, প্রণোদনা, দ্রুত অনুমোদন এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ কীভাবে আইপিও কার্যক্রমকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। বাংলাদেশের চলমান নিয়ন্ত্রক সংস্কারগুলো আস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পেশাদার হিসাববিদরা নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষার গুণমান, ন্যায্য মূল্যায়ন, সুশাসন এবং বিনিয়োগকারী সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন—যা শেষ পর্যন্ত মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে ফিরে আসতে সহায়তা করে।

এই সম্মেলনটি পেশাজীবী সংস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। এখানে সমন্বিত পেশাগত পদক্ষেপের মাধ্যমে কীভাবে বিনিয়োগকারী সুরক্ষা জোরদার করা যায়, বাজারের স্বচ্ছতা বাড়ানো যায় এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা, দায়িত্বশীল প্রতিবেদন প্রণয়ন, সুশাসন, পেশাগত উৎকর্ষ এবং পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন পেশাজীবী সংস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনের সাথে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আইসিএবি তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।