Corporate Sangbad
বিনোদন

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ন · বিনোদন ডেস্ক

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশের সব ব্যাংকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি। বিএফআইইউ’র সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, বিএফআইইউর পাঠানো ই-মেইল বার্তায় সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য, হিসাব খোলার ফরম (এওএফ), গ্রাহকের পরিচিতি-সংক্রান্ত তথ্য (কেওয়াইসি) এবং হিসাব বিবরণী (স্টেটমেন্ট) চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া, তার নামে থাকা হিসাবগুলোর কেওয়াইসি ও হিসাব বিবরণীর সফটকপি পাঠাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিএফআইইউর পাঠানো এক্সেল ফাইলে তার হিসাবসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এবং চিহ্নিত প্রতিটি হিসাবের সুদ আয় ও উৎসে কর (টিডিএস)-সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করে পাঠাতে বলা হয়েছে।

লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য তলবের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলেও বিএফআইইউ’র ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংস্থাটির একটি পরিপত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে তলব করা তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠে।

ঘটনার পর শনিবার রাতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টুডিওর ভাঙচুরের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান। সেখানে তিনি বলেন, হামলায় তার পুরো স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভিডিওতে স্টুডিওর বিভিন্ন অংশে ভাঙচুরের চিত্র দেখা যায়। চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় স্টুডিওর কয়েকজন কর্মীকে কাঁদতে দেখা যায়।

ভিডিওতে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল…এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে।’

ভিডিওটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উদ্দেশে করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না, দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ।’

হামলার কারণ সম্পর্কে সালমান মুক্তাদির বলেন, হামলাকারীরা সম্ভবত জানতেন না যে জায়গাটি তার। তার দাবি, স্টুডিওটি যে প্রপার্টিতে অবস্থিত, সেই জমির মালিকের সঙ্গে চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো বিরোধ হয়ে থাকতে পারে। ওই বিরোধের জেরেই সম্পত্তিতে হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

সালমান বলেন, ‘ওদের রিভেঞ্জ থেকে মাঝখানে আমাদের মানুষজন পড়ে গেছে। উনার প্রপার্টি ড্যামেজ করতে গিয়ে আমার প্রপার্টি এখানে মাঝখানে পড়ছে।’

তবে হামলার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় বা ঘটনার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভাঙচুরের পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমি এর থেকে বড় কিছু করব।’

সালমান মুক্তাদিরের দাবি, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রতিশোধ হিসেবে তার স্টুডিওতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল ছিনতাই করা হয়।

ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি বিমানে ঢাকা এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ফেসবুক লাইভে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, হামলায় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীল কাজের জায়গাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় তিনি থেমে যাবেন না বলেও জানান।

স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। পরে হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটনায় মূলহোতাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।