Corporate Sangbad
জাতীয়

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক: হুমায়ুন কবির

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ন ·

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণে নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সভায় ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সব অতিথিই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশের নতুন এই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। সার্বিক বিবেচনায় এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে।  

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সফরের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, চারদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী সব মিলিয়ে মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন, ৭টি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় বক্তব্য রেখেছেন, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সফল হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতিও বিভিন্ন দেশ সমর্থন জানিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বার্থের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শান্তি, সহযোগিতা ও মানবতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এ সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী সাধারণ বিতর্ক পর্বে অংশ নিয়ে বাংলায় বক্তব্য দেন। এসময় তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, দেশ পুনর্গঠনে সরকারের Recovery, Restoration and reconstruction কৌশল (Three-R), নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় সংলাপ ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শান্তি ও নিরাপত্তা, ফিলিস্তিন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, উন্নয়ন অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্ব সম্প্রদায় কর্তৃক প্রশংসিত ও অভিনন্দিত হয়।

মাহাদী আমিন বলেন, অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি, ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এছাড়াও, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এর পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিব, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার, মিয়ানমার সংক্রান্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসব দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ও সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।