Corporate Sangbad
বিনোদন

ইত্যাদি এবার নকশিকাঁথার জামালপুরে

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ন · বিনোদন ডেস্ক

দর্শকনন্দিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে মেঘালয় ছোঁয়া প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সীমান্তবর্তী জেলা নকশিকাঁথার জামালপুরে। নব্বই দশকের শুরু থেকেই শিকড়ের সন্ধানে স্টুডিওর চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে দেশের নানা প্রান্তে গিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে দর্শকপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটির। আমাদের লোকজ ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পুরাকীর্তি, সমৃদ্ধ পর্যটন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজানা সব বৈচিত্র্যময় গৌরবগাথা দর্শকের সামনে তুলে ধরাই ইত্যাদির মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়েছে বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সবুজ বনানী ও নৈসর্গিক লেক পরিবেষ্টিত ‘লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রের উন্মুক্ত চত্বরে’। পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ, পাহাড় ও সবুজের সমারোহের সাথে চমৎকার সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ।

ইত্যাদির ধারণকে ঘিরে পুরো জামালপুর জেলাজুড়েই ছিল উৎসবের আবহ। বরাবরের মতোই স্থানীয় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানেই দর্শকদের মাঝে বিতরণ করা হয় অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র। সাধারণত রাতের আলোকিত মঞ্চে ‘ইত্যাদি’ ধারণ করা হলেও, মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা লাউচাপড়ার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য তুলে ধরতে এবার দিনের আলোতেই ধারণ শুরু হয়।

দেখতে দেখতে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই পুরো প্রাঙ্গণ দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানটি বকশীগঞ্জে আয়োজিত হলেও শুধু এই উপজেলাই নয়, জেলার দূর-দূরান্তের বিভিন্ন উপজেলা, এমনকি পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকেও নানা বয়সের হাজারো মানুষ ছুটে আসেন তাদের প্রিয় এই অনুষ্ঠান উপভোগ করতে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কিংবা ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি-কোনো কিছুই দমাতে পারেনি দর্শকদের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও বিপুল উদ্দীপনাকে। ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি দর্শক উপস্থিত হওয়ায় কেউ গাছে উঠে, কেউবা পাহাড়ের চূড়ায় বসে উপভোগ করেছেন ধারণ অনুষ্ঠান।

এবারের পর্বে থাকছে দুটি ভিন্ন ধরণের গান। এর একটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পান্থ কানাই ও তসিবা বেগম-টেলিভিশন পর্দায় যাদের প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল ইত্যাদির মাধ্যমেই। লিটন অধিকারী রিন্টুর কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ।

বরাবরের মতো এবারও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জেলা পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। দ্বৈতকণ্ঠে গেয়েছেন মিজান মাহমুদ রাজীব ও সিঁথি সাহা। যাদের বাড়িও এই জামালপুরে। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। এস কে জাহিদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিচালনায় এই গানটির সাথে স্থানীয় বাঙালি ও গারো নৃত্য পরিবেশনা পুরো মঞ্চকে প্রাণবন্ত করে তোলে। উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালি আর উচ্ছ্বাসে গান দুটি উপভোগ করেন।

‘ইত্যাদি’র নিয়মিত আয়োজন দর্শকপর্বের প্রথা অনুযায়ী, ধারণস্থান জামালপুরকে কেন্দ্র করে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয় চারজন দর্শককে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোনীত এই দর্শকরা জামালপুরের চারজন স্মরণীয়-বরণীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের কালজয়ী চারটি গানের অংশবিশেষ পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধতায় ভরিয়ে দেয়।

‘ইত্যাদি’র নিয়মিত পর্বগুলোর মতো এবারও থাকছে বেশ কিছু তথ্যবহুল ও হৃদয়স্পর্শী প্রতিবেদন। জামালপুরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক ‘নকশিকাঁথা’ এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি বা পিঠালি’র ওপর বিশেষ প্রতিবেদনের পাশাপাশি জামালপুর জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদের ওপর একটি তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম জামালপুরের ‘তুলসীপুর ঘোড়ার হাট’-এর ওপর রয়েছে একটি ভিন্নধর্মী প্রতিবেদন। জামালপুরে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত পরিবার, অভাবের তাড়নায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার-এসব নিয়ে রয়েছে একটি মানবিক প্রতিবেদন। এছাড়া জামালপুরের জন্ম নেওয়া চারজন কালজয়ী গুণী ব্যক্তিত্বের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে।

সবশেষে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজেদের পরিশ্রমে স্বাবলম্বী হওয়া ফেরদৌস হাসান বাপ্পী ও ওসনাই খাতুন দম্পতির অদম্য জীবনসংগ্রামের গল্প নিয়ে থাকছে এক অনুপ্রেরণাদায়ক মানবিক প্রতিবেদন।

এবারের বিদেশি প্রতিবেদন পর্বে থাকছে প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা চীনের নয়নাভিরাম ‘সুঝৌ’ সিটির ওপর একটি বিশেষ চিত্রায়ন।

অনুষ্ঠানে থাকছে কাশেম টিভির রিপোর্টার ও নাতির প্রাণবন্ত আলাপ। পাশাপাশি নিয়মিত ‘চিঠিপত্র’ পর্বের সঙ্গে থাকছে সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে একাধিক তীক্ষ্ণ ও তীর্যক নাট্যাংশ। এসব নাট্যাংশে অভিনয় করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় অভিনয় শিল্পীরা।

সব সময়ের মতো ইত্যাদির এবারের পর্বটিও রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। গণমানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদির এই পর্বটি প্রচারিত হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর, বাংলাদেশ টেলিভিশনে। অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।