Corporate Sangbad
আন্তর্জাতিক

ইরানের ৫ তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জর্ডানে পাল্টা হামলা তেহরানের

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন ·

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে ইরানের পাঁচটি তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর জবাবে আঞ্চলিক মার্কিন মিত্র জর্ডানের ওপর দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। খবর সিএনএনের।  

সেন্টকম জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইরানের সামরিক বাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার আক্রমণের চেষ্টা চালায়। তবে মার্কিন জাহাজটি সফলভাবে সেই হামলা এড়িয়ে যায়। এর জবাবে ওমান উপসাগরে চারটি ও পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপের কাছে একটিসহ মোট পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। তবে আঘাত হানার পূর্বে জাহাজের কর্মীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে সেনটকম।

মার্কিন এই হামলার পর পরই পাল্টা জবাব হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত ‘মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ব্যালাস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে ইরান। জর্ডান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিক্ষেপ করা ২০টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি দুটি জনমানবহীন এলাকায় পড়েছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এর পাশাপাশি কুয়েত ও বাহরাইন বন্দরের কাছে থাকা তেল ট্যাংকারগুলোতেও হামলার চরম হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যেসব তেল ট্যাংকার সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতা কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরের কাছে নোঙ্গর করে আছে, সেগুলোর কর্মীদের অবিলম্বে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় ওসব জাহাজে সরাসরি হামলা চালানো হবে।

কলম্বিয়া সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ব্যারাঙ্কুলা শহরে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান প্রতিনিয়ত মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে আঘাত হানার চেষ্টা করছে। তারা যতবারই আমাদের জাহাজে হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের নিজেদের তেল ট্যাংকার হারাতে হবে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইরানের বিমান পরিবহণ খাতের ওপর নতুন করে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ২৭টি ইরানি বিমান সংস্থা এবং ৯টি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নতুন অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে।