Corporate Sangbad
অর্থ-বাণিজ্য

বিভাগীয় মামলা ও লঘুদণ্ড থেকে মুক্তি পেলেন এনবিআরের ২০ কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ন ·

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শাস্তি পাওয়া ২০ জন কর্মকর্তার দণ্ডাদেশ বাতিল এবং বিভাগীয় মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বরাবর করা আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এর আগে গত ১৮ অগাস্ট রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআর কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তি তুলে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আরজি জানান। আইআরডির আদেশে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের নিরিখে এনবিআর কর্মকর্তাদের শাস্তি মওকুফ করার কথা বলা হয়েছে।

এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ‘সংগঠকের ভূমিকা পালন’ করাসহ নানা অভিযোগে মূল বেতন দুই ধাপ বা ততোধিক কমানোর শাস্তি ছিল।

ক্ষমা পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (উপকমিশনার) মো. শাহাদাত জামিল, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বশর, ঢাকা উত্তর কমিশনারেটের রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া এবং খুলনার কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম রয়েছেন।

এছাড়া, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রামের কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) মো. জাকির হোসেন, একই কমিশনারেটের যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির, গাজীপুরের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আ.আ.ম. আমীমুল ইহসান খান এবং ঢাকা পশ্চিমের অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়মের লঘুদণ্ড বাতিল করে দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকার অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদারও রয়েছেন।

দণ্ড মওকুফ পাওয়া কর কর্মকর্তাদের মধ্যে কর অঞ্চল-ময়মনসিংহের যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, কর অঞ্চল-যশোরের যুগ্ম কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া, কর অঞ্চল-গাজীপুরের অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, কর অঞ্চল-২২, ঢাকার অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) সুলতানা হাবীব, কর অঞ্চল-যশোরের অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন খান এবং ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের ঢাকার যুগ্ম কর কমিশনার মাসুমা খাতুন রয়েছেন।

এছাড়া, খুলনার উপ-কর কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান, কর অঞ্চল-২১, ঢাকার উপ-কর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল এবং কর অঞ্চল-দিনাজপুরের অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানার লঘুদণ্ড বাতিল ও বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এনবিআর সংস্কার ও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আন্দোলনে অংশগ্রহণ, কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্টতা এবং সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। শাস্তি হিসেবে তাদের বেতন স্কেল ২ থেকে ৩ ধাপ অবনমন করা হয়েছিল।

এরপর দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কয়েকজন রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করেন। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি তাদের আবেদন মঞ্জুর করায় সংশ্লিষ্ট দণ্ডাদেশ বাতিল এবং কয়েকজনকে বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।