Corporate Sangbad
আইন-আদালত

প্রতারণার মামলায় জামিন পেলেন বিদিশা, মুক্তিতে বাধা নেই

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন ·

প্রতারণার মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাসুদ মিয়া। পরে এ বিষয়ে আইনজীবী মাসুদ মিয়া বলেন, বিদিশার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট প্রতারণার মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হওয়া বিদিশার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ছিল। গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় এ মামলা করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী।

তার অভিযোগ, ২০০১ সালে রাজধানীর বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার বিষয়ে বিদিশার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে তাদের মধ্যে চুক্তি হয়।

ওই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা তাকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নিয়ে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন বাদী। এ সময় উভয়ের মধ্যে বায়নানামাও সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।

পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

বাদীর অভিযোগ, এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। এমনকি পাওনা টাকা বা ফ্ল্যাট ফেরত চাইলে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।