নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার অভিনীত তিনটি চলচ্চিত্র নিয়ে বিনামূল্যে উন্মুক্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)।
বিএফডিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। বিএফডিসির ভিআইপি প্রজেকশন হলে প্রতিদিন বিকেল ৪টায় সালমান শাহ অভিনীত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র দর্শকদের জন্য প্রদর্শন করা হবে।
প্রদর্শনীর প্রথম দিন, ৬ সেপ্টেম্বর, দেখানো হবে সালমান শাহ অভিনীত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘স্বপ্নের ঠিকানা’। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর একই সময়ে দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন নায়কের অন্যতম সফল সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। তিন দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ দিন ৮ সেপ্টেম্বর প্রদর্শিত হবে সালমান শাহ অভিনীত আরেক জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘তোমাকে চাই’।
বিএফডিসি জানিয়েছে, চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সালমান শাহর অগণিত ভক্তদের জন্য এ আয়োজন উন্মুক্ত থাকবে। বিনামূল্যে প্রিয় নায়কের অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকরা।
অকালপ্রয়াত এই নায়কের অভিনয়, জনপ্রিয়তা ও চলচ্চিত্রে তার অনন্য অবদানকে স্মরণ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএফডিসি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, মাত্র ২৫ বছর বয়সেই মৃত্যু হয় তার। অল্প কয়েক বছরের জীবনে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক এবং গুটি কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয়গুণে জায়গা করে নেন দর্শকহৃদয়ে। তবে এখনো তার সেই অভিনয় দক্ষতার প্রভাব বেশ বিস্তৃত। আর মৃত্যুর এতবছর পরও তার তারকাখ্যাতি যেন আকাশসমান।
সালমান শাহ পরবর্তী সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে নায়ক হিসেবে যারাই এসেছেন, তারা জানিয়েছেন, সালমান শাহই তাদের অনুপ্রেরণার প্রধান ছিলেন। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। প্রথম সিনেমা ছিল ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। অভিনয়গুণে অভিষেকেই বাজিমাত করেন তিনি।
সালমান শাহকে বলা হয় ৯০ দশকের শ্রেষ্ঠ নায়ক। দর্শক ও সিনেমাপ্রেমিরা মনে করেন, অল্প সময়ের জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে এলেও অভিনয়ের জন্য অনন্য ছিলেন সালমান শাহ। অভিনয় দিয়েই সবার হৃদয়ে দাগ কেটেছেন তিনি। যে দাগ তার প্রস্থানের এতবছর পরও সব হৃদয়ে সমুজ্জ্বল।
সালমান শাহর প্রকৃত নাম ছিল শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। ক্যারিয়ারের শুরুতে ছোটপর্দায় কাজ করেছেন সালমান শাহ। ‘আকাশ ছোঁয়া’, ‘দোয়েল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’ ও ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি অনেক বিজ্ঞাপনও করেছেন।
এ তারকার সবশেষ সিনেমা ছিল ‘বুকের ভেতর আগুন’। তার সঙ্গে জুটি বেঁধে সবচেয়ে বেশি ১৩টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর।