Corporate Sangbad
আইন-আদালত

ময়মনসিংহে অটোরিকশাচালক হত্যা: একজনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ন · ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মোঃ নাজিম উদ্দিন হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দু'জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৩০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম পলাশ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন তোফায়েল আহমেদ নাসিম ও শাকিল।

রায়ে বলা হয়েছে, জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তোফায়েল আহমেদ নাসিম ও শাকিলকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাশের সাজা কার্যকরের বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদনের জন্য মামলার নথি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্র ও মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি রাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানোর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন নাজিম উদ্দিন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিন আসামি দাপুনিয়া বাজার থেকে একটি মিলে যাওয়ার কথা বলে তার মিশুক ভাড়া করেন। পরে তাকে কোতোয়ালি থানার সুহিলা মধ্যপাড়া এলাকার কাদুরবাড়ী এলাকায় একটি স্যানিটারি কারখানার সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে আসামিরা নাজিম উদ্দিনকে মারধর করে তার মিশুকটি নিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পুলিশ মিশুকটি উদ্ধার করে এবং তোফায়েল আহমেদ নাসিমকে আটক করে। পরবর্তী তদন্তে পলাশ ও শাকিলের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে পুলিশ তাদেরও মামলায় আসামি করে। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর তিনজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলার বিচারকাজে আদালত ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রায়ে আদালত পলাশকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই ধারায় তোফায়েল আহমেদ নাসিম ও শাকিলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আকরাম হোসেন বলেন, অটোরিকশা ছিনতাই করতে একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের বিভিন্ন নজির বিবেচনায় নিয়ে আদালত দৃষ্টান্তমূলক এ রায় দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ উভয়ই সন্তুষ্ট।