Corporate Sangbad
জাতীয়

আরও ৫০ পয়েন্টে যুক্ত হচ্ছে এআই সিগন্যাল ব্যবস্থা

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন ·

যানবাহনের নিয়ম মেনে চলা ও সুশৃঙ্খল পথচারী পারাপার নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকার সড়কে আরও প্রসার ঘটছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার। পরীক্ষামূলক সফলতার পর এবার রাজধানীজুড়ে আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যুক্ত হচ্ছে এই আধুনিক প্রযুক্তি।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার ১৩টি ইন্টারসেকশনে সেমি অটোমেটেড ও এআই ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় আরও ৫০টি নতুন পয়েন্টে এই প্রযুক্তি বসানো হচ্ছে।

নতুন ৫০টির মধ্যে ২৮টি সিগনাল বসছে ঢাকা উত্তর ও ২২টি বসছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে।

বুয়েটের (BUET) তত্ত্বাবধানে তৈরি এই বিশেষ প্রযুক্তি চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন ও নিয়ম মানার প্রবণতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, সম্পূর্ণ অটোমেটেড এই সিগন্যালগুলো পরিচালনায় আলাদা কোনো অপারেটরের প্রয়োজন পড়বে না। সড়কের যানবাহনের বাস্তব চাপের ওপর ভিত্তি করে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Automatically) কাজ করবে। পাশাপাশি, ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা চাইলে হাতের ট্যাব (Tablet) ব্যবহার করেও সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন করতে পারবেন।

প্রযুক্তির এই ব্যবহারে চালকদের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। অনেক চালক মনে করেন, জরিমানা বা মামলা এড়াতে এবং সতর্ক থাকার তাগিদ থেকে এআই সিগন্যাল মেনে চলার এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, "মানুষকে পুরনো অভ্যাস থেকে বের করে এনে শৃঙ্খলায় ফেরানো সহজ নয়। তবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই ব্যবস্থার প্রতি ইতিবাচক সাড়া মিলছে।"

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার প্রশংসনীয় হলেও, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা মিশ্র। ট্রাফিক কর্মকর্তাদের মতে, ফুটপাত দখল, যত্রতত্র পথচারীদের রাস্তা পারাপার এবং ফিটনেসবিহীন ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ উপস্থিতির কারণে অনেক সময় এআই সিস্টেম পুরোপুরি সুফল দিতে বা সঠিকভাবে কাজ করতে বাধার সম্মুখীন হয়।

প্রযুক্তিগত এই সেবা সার্বক্ষণিক ও নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে নতুন লোকবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সিগন্যালিং ব্যবস্থার ধারাবাহিক সচলতা ও দক্ষ তদারকি নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে 'ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট' নামের একটি বিশেষায়িত ইউনিটকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে।