Corporate Sangbad
সারাদেশ

রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ন ·

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল এবং তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এই তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবক আটক - Aporadh  Tothyachitra|Latest news of Crime

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত ভোররাতে নিহত গণপতির বাসভবন সংলগ্ন দেবপতির তিনতালা বিল্ডিং দিয়ে গণপতির দুই তালা বাসার ছাদে লাফিয়ে এসে ইয়াবা সেবন করে অভিযুক্ত ওই দুই যুবক। 

ছাদে মাদক সেবন দেখে ফেলায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, আটক ২

এ সময় শিক্ষক গণপতি ছাদে এসে ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় তারা গণপতির গলায় থাকা গামছা দিয়ে পেচিয়ে হত্যা করে। তার চেঁচামেচিতে স্ত্রী এগিয়ে আসলে তাকেও গলায় কাপড় পেচিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার চেচামেচিতে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী আসলে তাকে তিন-চার মিনিট গলায় কাপড় পেচিয়ে হত্যার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রশি পেচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপরে নিচে নেমে শিশুটিকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাথরুমে গোসল করে এবং ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে। এরপর জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে যায় এবং নিকটবর্তী একটি মন্দিরের পেছনে সেগুলো লুকিয়ে রাখে। পরে আসামিদের দেখানো মতে সেই আলামতগুলো জব্দ করা হয়।

তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরের আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে, যাতে ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে মনে হয়। এমনকি অপরাধের কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আলামত যেন না থাকে, সে জন্য বাসার দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে মাছুয়াপাড়ার ওই বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।