Corporate Sangbad
খেলাধুলা

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ন · স্পোর্টস ডেস্ক

সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে হারলো সফরকারী বাংলাদেশ। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলো। প্রথম টেস্ট ৯ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ।

ম্যাকাইতে প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় অসিরা। আজ রোববার (২৩ আগস্ট) ম্যাকাইয়ের গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনায় দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে বাংলাদেশকে অন্তত ১৪৭ রান। কিন্তু গুটিয়ে গেছে ৯৫ রানেই। ফলে ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এতে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।

প্রথম ইনিংসে ব্যাটারদের অকল্পনীয় ব্যর্থতার পরে দলকে কিছুটা টেনে তুলেছিলেন বোলাররা। বিশেষ করে শরিফুল ইসলাম। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে দায়িত্ব নিতে হতো ব্যাটারদের। কিন্তু এবার ব্যর্থতার ষোলাকলা পূর্ণ করলেন তারা। যেন প্রথম ইনিংসের হুবহু মঞ্চায়ন। দুই সেশনও ব্যাটিং করতে পারল না বাংলাদেশ। ৫ দিনের টেস্ট ম্যাচে ২ দিনও পুরোপুরি খেলা হলো না। এর মাঝেই দুইবার ব্যাটিংয়ে নেমে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে মিচেল স্টার্ক নামের গোলক ধাঁধাঁর কোনো উত্তর খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। প্রথম ঘন্টায়ই তার শিকার হয়েছিলেন পাঁচ ব্যাটার। দ্বিতীয় ইনিংসেও একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটাল বাংলাদেশ। এই ইনিংসেও স্টার্ককে উপহার দিলেন ৪ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সর্বনাশটা ঘটালেন তিনিই।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই স্টার্কের পরপর দুই বলে দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অসি পেসারের বাউন্সারে পরাস্ত হয়ে ক্যাচ দিয়েছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। ৩ বলে মোটে ১ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। অভিজ্ঞ মুমিনুল হক তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি। স্টার্কের বল যেন বুঝতেই পারেননি তিনি। ছেড়ে দিয়ে ফিরেছেন সোজা বোল্ড হয়ে।

মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই আরও এক উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্যাট কামিন্সের বলে কি করলেন তানজিদ হাসান তামিম, পরে হয়ত সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেচেন তিনি নিজেই। স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে করেছেন ৩৪ বলে ৯ রান।

এরপর চতুর্থ উইকেটে জুটি বেধে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক শান্ত আর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। বেশ খানিকটা সময়ই উইকেটে কাটান দুজন। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরে আর বেশি সময় এগোতে পারেননি শান্ত। ৪৬ বলে ৩১ রান করে নাথান লায়নের শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। এতে ভাঙে ৮০ বলে ২৭ রানের জুটি।

৫১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর দলকে উদ্ধার করতে প্রয়োজন ছিল দায়িত্বশীল ব্যাটিং। শেষ স্বীকৃত জুটি হিসেবে উইকেটে ছিলেন মুশফিক আর লিটন দাস। দায়িত্ব নিতে হতো তাদেরকেই। কিন্তু লিটন যেন ফিরলেন নিজেকে আত্মাহুতি দিয়ে। একই কাজ করলেন মেহেদী হাসান মিরাজও।

এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরে আগের দুই ইনিংসেও রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে গিয়েছিলেন লিটন। দলের বিপদে আজ নিজেকে প্রমাণ করার দায়িত্ব ছিল তার ওপর। কিন্তু মিচেল স্টার্ককে তিনি উইকেট উপহার দিলেন আর ক্যাচ শেখালেন বেউ ওয়েবস্টারকে। ২৫তম ওভারে স্টার্কের করা অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বলে খোঁচা মেরে মেরে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শূন্য রানে।

মিরাজও হাঁটলেন একই পথে। তিনি ভুল করলেন প্যাট কামিন্সের বলে। অফস্টাম্পের বাইরের বাউন্সার বল কী ভেবে তিনি খেলতে গেলেন তার উত্তর খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ১১ বল খেলেন ১ রান করেন মিরাজ। এরপর হাসান মাহমুদ এসেছিলেন মুশফিককে সঙ্গ দিতে। কিন্তু কামিন্সের শরীর বরাবর আসা বলে অসহায় হাসান ফিরেছেন ক্যাচ দিয়ে।

এরপর চা-বিরতি থেকে ফিরেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। নাথান লায়নের এক ওভারেই ফিরে যান তাসকিন আহমেদ (১১ বলে ৮) আর শরিফুল ইসলাম (২ বলে ০)। আরেকপ্রান্তে অসহায় দাঁড়িয়ে ছিলেন মুশফিক। ৮০ বল খেলে ২৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

এর আগে ২ উইকেট হাতে রেখে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিন আর আর নাথান লায়ন বেশ খানিকটা সময় অপেক্ষা করাল বাংলাদেশ। নির্বিষ বোলিংয়ে তাদের জবাব দিতে পারছিলেন না তাসকিন আহমেদরা।

ইনিংসের ৪৮তম ওভারে এসে সেই প্রতিরোধ ভাঙেন শরিফুল। দারুণ এক ডেলিভারিতে গ্রিনকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের একমাত্র হাফসেঞ্চুরিয়ান ফেরেন ১০৫ বলে ৬৭ রান করে।

এরপর শেষ উইকেট পেতেও বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৫ ওভার। শেষ উইকেট জুটিতেও ৩২ বলে ২৪ রান তুলেন লায়ন আর জস হ্যাজলউড। সেই জুটি ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন তাইজুল ইসলাম। হ্যাজলউডকে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান। ১৮ বলে ৬ রান আসে হ্যাজলউডের ব্যাট থেকে।

ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন শরিফুল। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে অলআউট করার কৃতিত্ব প্রায় পুরোটাই তার। যখনই অসিরা প্রতিরোধ গড়েছেন, তখনই তিনি এসে উইকেট তুলে নিয়েছেন। সবমিলিয়ে ১৫ ওভার বল করে ৪৮ রান দিয়ে শিকার করেছেন ৭ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশি কোনো পেসারের এক ইনিংসে এটাই সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর 

বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস) : ৩৪ ওভারে ৬৪/১০ (সাদমান ০, তামিম ০, মুমিনুল ৯, শান্ত ০, লিটন ০, মুশফিক ৫, মিরাজ ১১, হাসান ১০, তাসকিন ১, শরিফুল ১৪, তাইজুল ১১*; স্টার্ক ১০-৬-১২-৬, হ্যাজলউড ১১-২-১৮-১, কামিন্স ১০-৪-২৫-৩, ওয়েবস্টার ৩-০-৮-০)

অস্ট্রেলিয়া (প্রথম ইনিংস) : ৪০ ওভারে ১৬৫/৮ (হেড ২২, রেনশ ৮, লাবুশেন ৪, স্মিথ ৪২, ক্যারি ৫, ওয়েবস্টার ০, কামিন্স ০, স্টার্ক ১, গ্রিন ৬৭, হ্যাজলউড ৬, লায়ন ৩২*; তাসকিন ১২-১-৫৮-১, হাসান ১৪-৩-৬৭-০, শরিফুল ১৫-৪৮-৭, তাইজুল ৯.৩-১-১৭-১, মিরাজ ২-১-৪-১)

বাংলাদেশ (দ্বিতীয় ইনিংস) : ৩৮.৩ ওভারে ৯৫/১০ (সাদমান ১, মুমিনুল ০, তামিম ৯, শান্ত ৩১, লিটন ০, মিরাজ ১, হাসান ২, তাইজুল ৭, তাসকিন ৮, শরিফুল ০, মুশফিক ২৯*; স্টার্ক ১০-৩-৩৯-৪, হ্যাজলউড ৭-১-১৬-০, কামিন্স ১০-৪-১০-৩, লায়ন ১১.৩-৪-২৫-৩)

ফলাফল : অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫১ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা : মিচেল স্টার্ক

সিরিজ : ২ ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা