Corporate Sangbad
খেলাধুলা

মালদ্বীপে মারামারির ঘটনায় ১৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ আল-আমিন

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ন · স্পোর্টস ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্ট্রাইকার আল আমিনকে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।গত জুনে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত চার জাতির টুর্নামেন্টে মারামারি করে এই শাস্তি পেয়েছেন তিনি। এছাড়া মিরাজুলকেও নতুন করে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার। 

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ম্যাচ খেলার হার অনুযায়ী ১৫ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা মানে আনুমানিক দুই বছর জাতীয় দল বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ম্যাচে খেলতে পারবেন না আল–আমিন।

মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্টে’ আয়োজন করেছিল দেশটি। ওই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ও স্বাগতিক মালদ্বীপের ম্যাচের একপর্যায়ে উভয় দলের খেলোয়াড়রা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। মালদ্বীপের কয়েকজন ফুটবলার মারমুখী আচরণ করেন এবং বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক আঘাতও করেন। 

রেফারিং ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর ফিফা বাংলাদেশের ম্যানেজার ও ফুটবলার মিরাজুলকে এক দফা শাস্তি দিয়েছিল আর্থিক জরিমানা করে। আর আল আমিনের বিষয়টি নজরদারিতে রেখে ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা।

মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্টে’ আয়োজন করে দেশটি। গত ৭ জুন রাতে স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের বাঁচা–মরার ম্যাচ ছিল সেটি। সেই ম্যাচটিই যেন রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। 

রেফারির একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয় উত্তেজনা, যা পরে গড়ায় হাতাহাতি ও মারামারিতে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বাংলাদেশের আল-আমিন ও মিরাজুল ইসলাম লাল কার্ড দেখেন। মাঠের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতেও।

ঘটনার সূত্রপাত যোগ করা সময়ে। বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের পিয়াস আহমেদের সঙ্গে সংঘর্ষে মাটিতে পড়ে যান মালদ্বীপের হাসান ইনাজ। রেফারি সেকারান সেন্থিলনাথন সঙ্গে সঙ্গে মালদ্বীপের পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। 

সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে প্রতিবাদ করায় প্রথমে লাল কার্ড দেখেন মিরাজুল ইসলাম। এরপর মাঠের ভেতরে রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে লাল কার্ড পান ফরোয়ার্ড আল-আমিন। কার্ড দেখার পর নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে তিনি রেফারিকে ধাক্কা দেন। 

হট্টগোলে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হলেও মাঠের পরিস্থিতি ছিল চরম উত্তপ্ত। কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশের অর্ধে বল দখলের লড়াইয়ে মালদ্বীপের ইব্রাহিম নাসির ও বাংলাদেশের মনজুরুর রহমান বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়েরা সেখানে জড়ো হয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হন। 

শুরু হয় তুমুল হাতাহাতি ও মারামারি। মাঠের এই পরিস্থিতি দেখে গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত দুই দলের কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।