ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও ডিজিটাল করতে কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পাশাপাশি এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর মেয়াদে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ চালু করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইন-শৃঙ্খলা, মানবাধিকার উন্নয়ন ও ট্রেড লাইসেন্স সেবা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “ট্রেড লাইসেন্স সেবায় জোর-জবরদস্তির পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলতে চায় সিটি করপোরেশন। ব্যবসায়ীরা যেন ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য কর পরিশোধ করতে পারেন, সেই ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ ৫ বছর করার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সাইনবোর্ড কর প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, অনেক বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডের প্রকৃত আয়তন অনুযায়ী কর নির্ধারিত হয় না। তবে এই প্রক্রিয়ায় কাউকে হয়রানি না করে শতভাগ ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সহায়তায় বকেয়া ট্রেড লাইসেন্স ফি ও সিটি করপোরেশনের মার্কেটগুলোর ভাড়া আদায়জনিত জটিলতা বাজারভিত্তিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
ঢাকার যানজট, ফুটপাত দখল ও অবৈধ হকার সমস্যাকে নগরীর প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে আব্দুস সালাম বলেন, হকার ও ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় এনে নির্দিষ্টসংখ্যক লাইসেন্স দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় ও কার্যক্রম ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যানজট, চাঁদাবাজি ও নগর ব্যবস্থাপনার সংকট সমাধানে প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজকেও নেতৃত্ব দিতে হবে। তাদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
পুরান ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, রাজধানীকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যেন নাগরিকেরা ঢাকাকে নিয়ে গর্ব করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ করিম। এ সময় দুই সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিসিসিআইর পরিচালক ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।