জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় গত সপ্তাহের ফেরি দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। হ্রদটি থেকে শনিবার ২৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ এ তথ্য জানায়।
সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন সংস্থা (আরআইডিএ) পরিচালিত অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরিটি মঙ্গলবার উত্তাল পানিতে উল্টে যায়। জাম্বিয়ার সীমান্তবর্তী বিশাল এই হ্রদে এমন দুর্ঘটনা বিরল। ধারণা করা হচ্ছে, এটি দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী ফেরি দুর্ঘটনা।
জিম্বাবুয়ের হারারে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
পুলিশ শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘১৫ আগস্ট ২০২৬ রাতে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধারের পর কারিবা আরআইডিএ নৌযান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এখন ৭২।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শনিবার উদ্ধার করা মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এর আগে শনিবার পুলিশ আরও ২২টি মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা ৬৮ জনে উন্নীত হওয়ার কথা জানায়।
নতুন করে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি। তবে ফেরিটির অধিকাংশ যাত্রীই ছিলেন হ্রদের আশপাশে বসবাসকারী গ্রামবাসী ও মাছ ব্যবসায়ী।
কর্মকর্তারা জানান, নৌযানটিতে ৯০ জন যাত্রী বহনের অনুমতি ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক, পাঁচজন ক্রু এবং অজ্ঞাতসংখ্যক শিশু ছিল।
বেসামরিক সুরক্ষা ইউনিট বুধবার জানায়, ৭৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
হ্রদপাড়ের শহর কারিবার জেলা হাসপাতালে শনিবার কয়েক শত মানুষ জড়ো হন। তারা স্বজন ও প্রিয়জনের মরদেহ শনাক্ত করতে সেখানে অপেক্ষা করেন। জিমপেপার্স মিডিয়ার এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
নৌযানটির সন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত রেজিমেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোসেফ মুচেচেসি জিমপেপার্সের আরেকটি পোস্টে বলেন, ‘আজ এখন পর্যন্ত আমরা ২২টি মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, সব মরদেহই উদ্ধার করতে পারব।’ শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে মরদেহগুলো
পানির ওপরে ভেসে উঠতে সময় লাগছে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার (১৭৫ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কারিবা শহরে আবেগঘন এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ দাফন শুরু হয়।
বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানান, নৌযানটি যাত্রা শুরুর পরপরই পানি ঢুকতে শুরু করলে তারা চালককে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার এএফপির সাংবাদিকদের এক বেঁচে যাওয়া যাত্রী জানান, নৌযানটি ডুবে যাওয়ার সময় মানুষকে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে তিনি অসহায়ভাবে দেখেছেন। তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাত স্বজনও দুর্ঘটনায় মারা যান।
স্মরণসভায় চান্স সিয়ামাভু বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। একটি ঢেউ ডুবতে থাকা নৌযানটিকে ঠেলে দেওয়ায় আমরা সেটির ওপরে উঠতে পেরেছিলাম।’
৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বলেন, ‘নৌযানটি উল্টে যাওয়ার পর অধিকাংশ মানুষ লাইফ জ্যাকেট নেওয়ার জন্য ছোটাছুটি করেন। কিন্তু তাদের বেশিরভাগই সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা জানতেন না। অধিকাংশ মানুষ বাঁচতে পারেননি।’
জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তজুড়ে অবস্থিত লেক কারিবা । আয়তন নয়, পানির পরিমাণের দিক থেকে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ।