অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য পেল সফরকারী বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ২৮৪ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ ও বাংলাদেশ ৪২৬ রান করেছিল।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল অসিরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।
চতুর্থ দিন ক্যারিকে ৩০, বো ওয়েবস্টারকে ৫, অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে ৮ রানে বিদায় করেন মিরাজ। মিচেল স্টার্ককে ১৮ রানে তাসকিন আহমেদ এবং সেঞ্চুরিয়ান ক্যামেরন গ্রিনকে ১০৪ রানে আউট করেন হাসান মাহমুদ।
অস্ট্রেলিয়ার শেষ ব্যাটার নাথান লায়নকে ১৫ রানে লেগ বিফোর আউট করেন মিরাজ। ফলে ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায় অসিরা।
বল হাতে বাংলাদেশের মিরাজ ৬৬ রানে ৫টি, হাসান মাহমুদ ৩টি ও তাইজুল ইসলাম-তাসকিন ১টি করে উইকেট নেন।
এদিকে ৬ উইকেট হাতে রেখে ১৬১ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। আগের দিন শেষ বিকেলে জুটি গড়ে অসিদের রক্ষা করা ক্যামেরন গ্রিন আর অ্যালেক্স ক্যারির কাঁধে দায়িত্ব ছিল সকালটা পার করার। তবে সেই সুযোগ দেননি মিরাজ। দিনের সপ্তম ওভারেই ক্যারিকে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান। ৭২ বলে ৩০ রান করে ক্যারি ফিরলে ভাঙে ৫৬ রনানের জুটি।
পরের দুই ব্যাটারকেও সুযোগ দেননি মিরাজ। বেউ ওয়েবস্টার উইকেটে এসে দেখেশুনে শুরু করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য হুমকি হওয়ার আগেই তাকে সাজঘরের পথ দেখান মিরাজ। ২১ বলে ৫ রান করা ওয়েভস্টারের স্টাম্প ভেঙে দেন এই টাইগার অলরাউন্ডার।
এরপর রাজ্য জয়ের দায়িত্ব নিয়ে উইকেটে আসেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। প্রথম ইনিংসের মতো এই ইনিংসেও তাকে সফল হতে দেননি মিরাজ। ৩২ বলে ৮ রান করা কামিন্সকে ফিরিয়েছেন সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানিয়ে।
এরপর ক্যামেরনের গ্রিনের সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মিচেল স্টার্ক। বিরতি থেকে ফিরে তাকে আর সেই সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের দারুণ এক ডিলিভারিতে পরাস্ত হয়েছেন তিনি। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ বলে ১৮ রান করে ফিরেছেন তিনি। এতে ভাঙে ৭৭ বলে ৪৩ রানের জুটি।
বাকিদের যাওয়া-আসার ভিড়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে গতকাল থেকে লড়াই করে যাচ্ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়ানদের আশার প্রদ্বীপ হয়ে থাকা এই অলরাউন্ডার ডারউইন টেস্টে একমাত্র অস্ট্রেলিয়ার হিসেবে তুলে নেন সেঞ্চুরিও। তবে আর তাকে বেশি দূল যেতে দেননি হাসান মাহমুদ। ইনিংসের ৯৩তম ওভারে গ্রিনকে বোল্ড করে ফেরান তিনি। ফেরার আগে ২০১ বলে ১০৪ রানেআসে গ্রিনের ব্যাট থেকে।
এরপর আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। দুই ওভার পরই অস্ট্রেলিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন মিরাজ। শেষ ব্যাটার হিসেবে নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ফেরান মিরাজ। ২৭ বলে ১৫ রান করেন লায়ন।
লায়নকে ফেরানোর মাধ্যমে ফাইফার তুলে নেন মিরাজ। হাসান মাহমুদের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফাইফার তুলে নিলেন তিনি।