Corporate Sangbad
জাতীয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি : চিফ হুইপ

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ন ·

আসন্ন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিএনপি এখনও দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেনি বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, আমরা দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম ঘোষণার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছি, তিনি রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দলের ভেতরে ও স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আরও কয়েক দফা বৈঠক হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আমরা যোগ্য প্রার্থীর নাম যথাসময়ে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবো।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে। সংসদ সদস্যরা তাঁদের আসন ও বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন। 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারের ভোট দেওয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমকে সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা ও ফলাফল প্রস্তুতের কার্যক্রমও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।

চিফ হুইপ বলেন, সংসদে মোট ৩৪৯ জন ভোটার রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হলে গণনা শেষে দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। তবে কোনো ভোট বাকি থাকলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে এরপর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচনী কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংসদ সচিবালয় তাঁদের প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধন হয়নি, সুতরাং এটা কার্যকর থাকবে।'

নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীর বাইরে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হবে।

বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি সব সময় যোগ্য এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে এমন একজনকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, যিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করতে পারবেন। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনাই চূড়ান্ত।

সাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেয়ার স্বাধীনতা থাকবে।’

এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন বলেই বিরোধী দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিরোধী দল নির্বাচনটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চায়নি। সে কারণেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আজকের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, জুলাই সনদে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে চারটি ক্ষেত্রে ঐকমত্য রয়েছে এবং এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও রয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত রাখা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। যাতে দেশের মানুষ ভবিষ্যতে নির্বাচনমুখী হয় এবং নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, এ ধরনের পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে।

ভারতের সংবিধানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান গ্রহণের পর ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০৬ বার সংশোধন করা হয়েছে। প্রতিবারই সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা হয়েছে, নতুন করে সংবিধান রচনা বা সংবিধান সংশোধন পরিষদ গঠন করা হয়নি।

তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি দাঁড়ি, কমা ও সেমিকোলন যেভাবে আছে, সেভাবেই আমরা বাস্তবায়ন করবো। সবাই মিলে যে সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেটিই বাস্তবায়ন করা আমাদের কমিটমেন্ট।

চিফ হুইপ জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী সংসদ অধিবেশনেই একটি নতুন বিল আনা হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম সরকার করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ভারপ্রাপ্ত স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ।

সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, যাবতীয় লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান এবং সংসদ-সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ বিষয়ক সভার কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ নিশ্চিত করা হয়।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ উপলক্ষে যাবতীয় লজিস্টিক সাপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরামর্শ প্রদান করা হয়।