Corporate Sangbad
জাতীয়

সৌদি আরবে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শোক

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ন ·

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সোমবার (১০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই মন্ত্রী নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানিয়েছেন এবং তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোকের সময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মরদেহের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করছেন।

সেইসঙ্গে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন।

নিহতদের প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দুইজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের মো. রুবেল প্রামানিক, পিতা- মো. সাইদুর রহমান; মো. কলিমউদ্দিন, পিতা- মৃত বজলুর প্রামানিক; মো. মোহন ও মো. সুমন পিতা-গুফফার প্রামানিক এবং খরস্রোতা গ্রামের মজিদুল পিতা- মজনু রয়েছেন। এছাড়া উজানপই গ্রামের ফরিদ, ডুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন, বোয়ালা গ্রামের হৃদয়; নওগাঁ গ্রামের শাহিন; খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল এবং সাদনগর গ্রামের সাগর নিহত হয়েছেন। একই উপজেলার মিনহাজের গ্রামের নাম প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের শামিম এবং খাজুরা গ্রামের সাব্বিরও অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন। অপর নিহত ব্যক্তি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রাম, ডাংগাপাড়া এলাকার শ্যামল। 

প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের পরিচয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

জানা গেছে, ওই কারখানাটিতে ১৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করতেন। ১৭ জনের মধ্যে ১৬ জন কেউ আগুনে দগ্ধ হয়ে আবার কেউ ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছেন। বাকি একজন হাবিবুর রহমান সেলুনে শেভ করতে যাওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানায় ছিলেন না বলে বেঁচে যান।