Corporate Sangbad
জাতীয়

৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন ·

আগামীকাল বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর তিনি জাদুঘরটির বিভিন্ন কর্নার ঘুরে দেখবেন। পরে ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) থেকে এটি সর্বসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

মন্ত্রী জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিচারণ করবেন। একইসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জুলাই জাদুঘর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জাদুঘরের উদ্বোধনী দিনটির পাশাপাশি বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া, পর্যায়ক্রমে এই স্মৃতি জাদুঘরকে আরও সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, উদ্বোধনের প্রথম দিন জাদুঘরটি শুধুমাত্র শহীদ পরিবারের সদস্যদের পরিদর্শনের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পরদিন থেকে সাধারণ দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। রক্তক্ষয়ী সেই গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনেরও অবসান ঘটে। সেদিন গণভবনের প্রতিটি অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল জনতার ক্ষোভ, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন চলে গিয়েছিল ছাত্র-জনতার দখলে।

এরপর বহু মানুষের চোখের জলের সাক্ষী সেই গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, ভিডিও, দলিল-দস্তাবেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত পোশাক, বিভিন্ন স্মারক, আন্দোলনের ব্যানার, প্ল্যাকার্ডসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় বিগত অন্তর্বর্তী সরকার।

অবশেষে সেই রক্তে ভেজা আগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তিতে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। যে জাদুঘরের দেয়াল জুড়ে এখন সাজানো আপসহীন সংগ্রাম, ৩৬ জুলাইয়ের জনতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভের নানা প্রতিচ্ছবি।