Corporate Sangbad
জাতীয়

মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সফরে আসছেন ২৫ কোম্পানির ৪৫ কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ন ·

বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শেষে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

মাহ্দী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সফর বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দু’দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি জানান, সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

গত পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত নীতি ও পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করে মার্কিন পক্ষ। মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি সুদৃঢ় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে রূপান্তর করতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) বর্তমান ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি মার্কিন বিনিয়োগকারী ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এর ফলে মার্কিন উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে এসে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অন্বেষণ করতে পারবেন। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি দেশে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিগত স্বৈরাচারী আমলের কারণে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সৃষ্টি হওয়া জটিলতা তুলে ধরেন। তারা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি নিরসন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর ও শুল্ক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (যেমন বেজা ও বিইপিজেডএ) বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করার তাগিদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং একটি ‘প্রো-বিজনেস’ ও ‘প্রো-ইনভেস্টমেন্ট’ পরিবেশ নিশ্চিত করার জোরালো আশ্বাস দেন।

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও দ্রুত ও সহজ করতে ব্যবসায়ী সমাজের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর এবং ঢাকা বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা (২৪/৭) সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে দ্রুত নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে মাহ্দী আমিন পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দেশের বিশাল তরুণ সমাজকে দক্ষ ও আত্মকর্মসংস্থানে উপযোগী করে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিকে ধারণ করে জনবান্ধব বাজেট ও নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে সরকার সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক।