Corporate Sangbad
জাতীয়

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ন ·

সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মা যেন জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারেন, এমন বিধান যুক্ত করে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে আইনগত সহায়তা নিয়ে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি আইন নিয়ে কাজ করছি। বাংলাদেশে অধিকাংশ দেওয়ানি মামলাই সম্পত্তির বণ্টন ও হিসাব-নিকাশসংক্রান্ত। তাই সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে কিছু পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছি। মুসলিম আইনে হেবা, হিন্দু আইনে উইল এবং মুসলিম আইনে অসিয়তনামার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাবা-মা সন্তানদের নামে হেবা করে সম্পত্তি দিয়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পত্তির মালিকানা তাদের হাত থেকে চলে যায়। তখন তারা সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। যদি সন্তানরা তাদের দেখাশোনা না করে, তাহলে বাবা-মা অসহায় হয়ে পড়েন।

তিনি জানান, বিদ্যমান সম্পত্তি হস্তান্তর আইন (ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট)-এ গিফটের একটি বিধান রয়েছে। সেই আইনে ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ (জীবনস্বত্ব) যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি গিফট করলেও জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখলের অধিকার তাদের কাছেই থাকবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বাবা-মা জীবিত থাকা অবস্থায় উভয় পক্ষের সম্মতি ছাড়া ওই সম্পত্তি বিক্রি করা যাবে না। অর্থাৎ সন্তান এককভাবে বিক্রি করতে পারবে না, আবার বাবা বা মাও একাই বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

তিনি বলেন, আবার যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে বাবার চিকিৎসার জন্য সম্পত্তি বিক্রি করা প্রয়োজন, কিন্তু সন্তান সম্মতি দিচ্ছে না, তাহলে জেলা জজকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। আবেদন করা হলে জেলা জজ বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সংশোধন কার্যকর হলে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ কমবে, একই সঙ্গে দেওয়ানি মামলার সংখ্যাও হ্রাস পাবে। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় আইনগত পরিবর্তন আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।