আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হবে। বিশেষ অধিবেশন ডেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তাও যাচাই করা হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তবে সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতির মামলা প্রসঙ্গে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
এ সময় আইনমন্ত্রী আরও জানান, চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে আহত আট ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হলে তা প্রত্যাহার করা হবে। বর্তমান সরকারের সময়ে সীমান্তে বিচারবহির্ভূত হত্যা ('এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং') শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া যত প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাই হোন না কেন, ধর্ষণের মামলা কখনো প্রত্যাহার করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন মন্ত্রী।
এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম-এর নিকট পদত্যাগপত্র দাখিল করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’
তিনি আরও লিখেন ‘এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রয়েছেন। একই সঙ্গে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।