Corporate Sangbad
জাতীয়

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ন ·

গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ দেখিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার নিজে এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।  

সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আমার কাছে দাখিল করেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে মহামান্য রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডে যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

পদত্যাগপত্রে যা উল্লেখ করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রটি পড়ে শোন করে স্পিকার জানান, রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেছেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতার মতো গুরুতর রোগে ভুগছেন। ইতিপূর্বে তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে এবং সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ (Autonomic Neuropathy) নামক জটিল রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই নিঃসঙ্গ ও জটিল রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে আকস্মিকভাবে অচেতন হয়ে পড়েন।  

পদত্যাগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব শারীরিক জটিলতা ও ক্রমবর্ধমান মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও নিয়মিত কার্যভার পালন করা তাঁর পক্ষে আর কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া তাঁর সুচিকিৎসার জন্য এখন দীর্ঘমেয়াদি ও নিবিড় চিকিৎসার একান্ত প্রয়োজন। সার্বিক বিবেচনা করেই তিনি স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।  

সংবিধানের আলোকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধানের বিধান অনুযায়ী স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময় প্রয়োজন সাপেক্ষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া দেশের স্বার্থে বা অনিবার্য কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই সাংবিধানিক নিয়ম।’ 

তিনি আরও বলেন, গত কিছুদিন ধরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও রাজনৈতিক অঙ্গনের নানা গুঞ্জন নিয়ে জনমনে বিভিন্ন আলোচনা চলছিল। আজকের এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এটি পুরোপুরি স্পষ্ট হলো যে তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত কারণেই পদত্যাগ করেছেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির দ্রুত সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।  

ধোঁয়াশা ও বিভ্রান্তির অবসান
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার স্পষ্ট করে জানান, দেশের একজন রাষ্ট্রপ্রধান বা রাষ্ট্রপতি গুরুতর অসুস্থ হতেই পারেন এবং তিনি তাঁর পদত্যাগপত্রে সবিস্তারে অসুস্থতার কারণ লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আইনগতভাবে অতিরিক্ত কোনো চিকিৎসা সনদের প্রয়োজনীয়তা নেই। তিনি জোরালো আশা প্রকাশ করেন যে, এই পদত্যাগ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে তৈরি হওয়া সব ধরনের ধোঁয়াশা, রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তার চির অবসান ঘটবে।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আরও যোগ করেন, ‘রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক বা রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য থাকে না। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও শৃঙ্খল বজায় রাখতে সংবিধানের নির্দিষ্ট বিধান অনুসরণ করেই আমি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন কার্যভার পরিচালনা শুরু করেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বতন ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।