Corporate Sangbad
শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি

আগামী বছর থেকে জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ন ·

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সংসদে কক্সবাজার-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য লুৎফুর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাবর্ষকে সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিক্ষাবর্ষের শুরু এবং পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচির মধ্যে সমন্বয় আনা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সময়ের অপচয়ও কমানো সম্ভব হবে।

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে পাবলিক পরীক্ষা আরও আগাম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।

এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে এমন তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। তবে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে ওঠা বিতর্কের পর পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় ওই দুটি প্রশ্নে সকল পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

তিরি আরো বলেন, দেশে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘসময় বন্ধ রাখতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়ে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালু রাখতে এবার পৃথক ও স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, কারিগরি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার জন্য পৃথক ও স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রস্তাব বর্তমানে অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি জানান, এ ধরনের স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপিত হলে পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মন্ত্রী আরও জানান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ও স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে বর্তমানে কোনো স্বতন্ত্র পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয়তা, বাস্তবতা ও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো- পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠাননির্ভরতা কমানো এবং শিক্ষা কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে চলমান থাকে, সে লক্ষ্যে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।