Corporate Sangbad
শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি

সব মাদ্রাসায় দৈনিক সমাবেশ ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি

প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ন ·

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিতে দেশের সব মাদ্রাসায় দৈনিক সমাবেশ (পিটি) ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও শারীরিক শিক্ষা শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে স্বাক্ষর করেন পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) মো. আবুল কালাম তালুকদার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া চর্চার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তরুণ প্রজন্মকে শারীরিকভাবে সুস্থ, মানসিকভাবে দৃঢ় এবং শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত দৈনিক সমাবেশ (পিটি) এবং খেলাধুলার আয়োজন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব মাদ্রাসার শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন সমাবেশ (পিটি) পরিচালনা এবং খেলাধুলার আয়োজন করবেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে।

যেসব মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদ শূন্য রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে খেলাধুলায় দক্ষ ও উপযুক্ত একজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে এ দায়িত্ব দিতে হবে।

পাশাপাশি শূন্যপদ দ্রুত পূরণের জন্য বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক চাপ কমানো, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলাবোধ এবং দলগত কাজের মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের স্বার্থে এ কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ নির্দেশনার অনুলিপি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, সব জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শরীরচর্চা, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং সুস্থ জীবনধারা গড়ে ওঠার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।