Corporate Sangbad
খেলাধুলা

মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন · স্পোর্টস ডেস্ক

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অধিনায়ক লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই নাটকীয় ম্যাচে পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে দুর্দান্ত এক গোল ও অ্যাসিস্টে আবারও দলের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন মেসি। শেষ মুহূর্তের অনবদ্য ফুটবলে মিশরের হৃদয় ভেঙে মহানাটকীয় এক জয় পায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

আগের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে কষ্টের জয়ের পর ক্লান্ত দূর করতে আর্জেন্টিনা একাদশে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, লেয়ান্দ্রো পারেদেস ও হুলিয়ান আলভারেসকে ফিরিয়ে আনেন কোচ স্কালোনি। তবে ম্যাচের শুরুটা আলবিসেলেস্তেদের জন্য মোটেও ভালো ছিল না। ১৫ মিনিটেই মারওয়ান আতিয়ার ক্রস থেকে চমৎকার হেডে মিশরকে এগিয়ে নেন ইয়াসির ইব্রাহিম।

পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। বক্সের ভেতর তাগলিয়াফিকো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে মেসির দুর্ভাগ্যের তালিকায় যোগ হয় নতুন এক অধ্যায়। আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী মেসির দুর্বল শটটি বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইব। এর ফলে বিশ্বকাপে টাইব্রেকার বাদে নেওয়া ৮টি পেনাল্টির মধ্যে ৪টিই মিস করলেন মেসি। একই সাথে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার পর এই ম্যাচে পেনাল্টি মিস করে বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার বনে যান তিনি।

এরপর প্রথমার্ধে ম্যাক অ্যালিস্টার ও আলভারেসের দুটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দিয়ে মিশরের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান আল আহলির গোলরক্ষক শোবেইব।

ভিএআর বিতর্ক ও মিশরের দ্বিতীয় গোল
ম্যাচের ৬০ মিনিটে এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মোহাম্মদ সালাহর পাস ধরে এমি মার্টিনেসের ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে পাঠান মিশরের মোস্তফা জিকো। তবে আক্রমণটি শুরুর আগে মিশরের বক্সের বাইরে লিসান্দ্রো মার্টিনেসকে ফাউল করার অভিযোগে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সহায়তায় রেফারি গোলটি বাতিল করেন, যা নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়।

গোল বাতিলের ধাক্কা সামলে অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মিশরকে। এর কিছুক্ষণ পরই সালাহর পাস থেকে হাইসেম হাসানের নিচু ক্রসে নিখুঁত টোকায় বল জালে জড়িয়ে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন সেই জিকো।

আলবিসেলেস্তেদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন
দ্বিতীয়ার্ধের কুলিং ব্রেকের সময়ও মেসিসহ আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের চোখে-মুখে ছিল পরাজয়ের হতাশা। তবে এরপরই শুরু হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আসল রূপ।

প্রথম গোল (রোমেরো): মেসির কর্নার বা পাস থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তনের রূপরেখা তৈরি করেন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।

দ্বিতীয় গোল (মেসি): পেনাল্টি মিসের খলনায়ক থেকে নায়ক বনে যাওয়ার মুহূর্তে ৮৩ মিনিটে বক্সের ভেতর গনসালো মনতিয়েলের পাস থেকে চোখ ধাঁধানো হাফ-ভলিতে গোল করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান মেসি। মিশরের গোলরক্ষক শোবেইব বলের নাগাল পেলেও তা ক্রসবারে লেগে জালে জড়ায়। এটি বিশ্বকাপে মেসির ২১তম গোল। একই সাথে টুর্নামেন্টে নিজের ৮ম গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষস্থান মজবুত করলেন তিনি।

জয়সূচক গোল (এনজো): ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ে (স্টপেজ টাইম) লাউতারো মার্টিনেসের ক্রস থেকে বুলেট গতির হেডে বল জালে পাঠান এনজো ফার্নান্দেজ। আর তাতেই ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।

ম্যাচ শেষের উত্তেজনা
শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে আর্জেন্টিনা শিবির। ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কাঁদতেও দেখা যায় লিওনেল মেসিকে। অন্যদিকে, একাধিক বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচ শেষে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মিশরীয় শিবির। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মিশরের কোচিং স্টাফের এক সদস্যকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।

এই মহানাটকীয় জয়ের মাধ্যমে মিশরের ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আট নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা।