Corporate Sangbad
খেলাধুলা

পর্তুগালকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন

প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন · স্পোর্টস ডেস্ক

বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর ইনজুরি টাইমের নাটকীয় গোলে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। ডালাসের এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই অবসান ঘটল পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ষষ্ঠ ও শেষ বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের।

৭০ হাজার ৬৪৯ জন দর্শকঠাসা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামে ম্যাচটি কাগজে-কলমে যতটা রোমাঞ্চকর মনে হয়েছিল, মাঠে ততটা ছড়াতে পারেনি। দুই দলের সতর্ক ফুটবলে ম্যাচটি যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ডেডলক ভাঙেন মেরিনো। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে জাল কাঁপান এই আর্সেনাল মিডফিল্ডার।

এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ৪১ বছর বয়সি রোনালদোর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি তিক্ত অভিজ্ঞতায় রূপ নিল। বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে খেলা সিআরসেভেন ম্যাচের আগের দিনই নিশ্চিত করেছিলেন, এটাই ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ।

দুই প্রতিবেশী দেশই অপরাজিত অবস্থায় শেষ ষোলোর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল। পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম না করার রেকর্ড এই ম্যাচেও অক্ষুণ্ন রাখল স্পেন।

ঐতিহ্য ও প্রতিভায় সমৃদ্ধ হলেও স্পেন এখন পর্যন্ত মাত্র একবার (২০ ২০১০ সালে) বিশ্বকাপ জিতেছে। অন্যদিকে পর্তুগালের সেরা সাফল্য ১৯৬৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন। ম্যাচটিকে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এবং স্পেনের ১৮ বছর বয়সি লামিন ইয়ামালের ক্যারিয়ারের দুই ভিন্ন প্রান্তের অসাধারণ প্রতিভার দ্বৈরথ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

ম্যাচের উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত
১০ মিনিট: স্পেনের দারুণ সুযোগ মিস। ডানি ওলমোর বাড়ানো বল থেকে মিকেল ওয়ারজাবাল গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন।

রোনালদোর আক্রমণ: পর্তুগাল অধিনায়ক রোনালদোর নেয়া একটি শক্তিশালী শট দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সাইমন। পুরো ম্যাচে এটিই ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান, এরপর তাঁর প্রভাব ছিল সীমিত।

স্পেনের চাপ: কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা এরপর চাপ বাড়ায়। ইয়ামাল ও এ্যালেক্স বায়েনার পরপর দুটি শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন পর্তুগিজ কিপার দিয়োগো কস্তা।

প্রথমার্ধের শেষভাগ: কোচ রবার্তো মার্টিনেজের পর্তুগাল গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। নুনো মেন্ডেসের একটি শট স্পেনের ফুল-ব্যাক পেড্রো পোরো হেড দিয়ে ক্লিয়ার করতে গেলে তা নিজেদের ক্রসবারে লাগে। ভাগ্য সহায় থাকায় সে যাত্রা রক্ষা পায় স্পেন।

ম্যাচে স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালকে বোতলবন্দী করে রেখেছিলেন পর্তুগালের নুনো মেন্ডেস। কিন্তু ৫৬ মিনিটে চোট পেয়ে মেন্ডেস মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে বড় ধাক্কা খায় পর্তুগাল।

ম্যাচের ডেডলক ভাঙতে রবার্তো মার্তিনেজ ৭১ ও ৮৩ মিনিটে বেশ কিছু পরিবর্তন আনলেও অধিনায়ক রোনালদোকে মাঠেই রেখেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত রক্ষণাত্মক এই ম্যাচে শেষ হাসি হাসেন মিকেল মেরিনো, যার একমাত্র গোলে বিদায় নিতে হলো পর্তুগালকে।