Corporate Sangbad
জাতীয়

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জাইকা প্রেসিডেন্টের

প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ন ·

বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি দেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো।

পাঁচ দিনের সফল বাংলাদেশ সফর শেষে সোমবার (৬ জুলাই) তিনি নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

জাইকা প্রধানের এই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাপানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

হোলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির ১০ বছর: নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা
সফরের শুরুতেই ড. তানাকা ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান বেকারি হামলায় নিহত সাত জাপানি নাগরিকের স্মরণে আয়োজিত ‘দশম বার্ষিক স্মরণসভা’তে অংশ নেন। নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বাংলাদেশ ও জাপানের জনগণের মধ্যে শান্তি, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সরকারপ্রধান ও মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
সফরকালে জাইকা প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং জাপানের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশকে দেওয়া ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন জরুরি সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

ড. তানাকা পৃথকভাবে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে অংশ নেন- পররাষ্ট্র মন্ত্রী: ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী: শেখ রবিউল আলম।

এসব বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মেগা প্রকল্প ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শন
সফরের অংশ হিসেবে ড. তানাকা জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত দেশের বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প ও মানবিক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন:

বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল (১ জুলাই): এটি চালু হলে যাত্রীসেবা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের আধুনিক রূপ প্রকাশ পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র (৩ জুলাই): এগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংযোগ (Connectivity) জোরদারে ভূমিকা রাখবে, যা জাপানের ‘আপডেটেড ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ (FOIP) ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার পরিদর্শন (৪ জুলাই): কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত ডব্লিউএফপি, ইউএনএইচসিআর ও আইওএম-এর মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং জাইকার জীবিকাভিত্তিক প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন তিনি। একই দিনে জাইকার অনুদানে নির্মিত কক্সবাজার ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার এবং উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্পও ঘুরে দেখেন।

নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (সফরের শেষ দিন): ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর ‘জে-ড্রাম’ উদ্যোগ পরিদর্শন করেন, যা পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনায় জাইকার সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত।

সফর শেষে ড. তানাকা আকিহিকো বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত শক্তিশালী। আগামী বছরগুলোতেও এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় পাশে থাকতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”