Corporate Sangbad
খেলাধুলা

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার

প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ন · স্পোর্টস ডেস্ক

ব্রাজিলের হেক্সা (ষষ্ঠ) মিশন আবারও থমকে গেল নকআউট পর্বেই। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে চোখের জলে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হলো সেলেসাওদের। আর এই চরম বিপর্যয়ের পরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে একের পর এক সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয় ব্রাজিলকে। আক্রমণভাগে ধারহীন ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ভেঙে নরওয়েকে এগিয়ে নেন তাদের তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ড। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান নেইমার। তবে সেই গোল পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠের মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

থিয়াগো সিলভার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে নেইমার
এই বিদায়ের মাধ্যমে নেইমার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের অংশ হয়ে গেলেন। ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও একবারও ট্রফি ছোঁয়া হলো না তার। এর আগে ২০১০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপ খেলে একই ভাগ্য বরণ করেছিলেন ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা। নেইমার খেললেন ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপ।

অথচ ব্রাজিলের হয়ে চারটি বিশ্বকাপ খেলা বাকি কিংবদন্তিরা (পেলে, নিলটন সান্তোস, লেয়াও, কাস্তিলহো, কাফু, দালমা সান্তোস ও রোনালদো নাজারিও) প্রত্যেকেই অন্তত একবার বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন।

পেলের পাশে অনন্য কীর্তি
বেদনার মাঝেও বিদায়বেলায় একটি গৌরবময় কীর্তি গড়েছেন নেইমার। কিংবদন্তি পেলের পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার নজির স্থাপন করেছেন তিনি। নরওয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে করা গোলটিই তাকে এই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

দীর্ঘদিন চোটের কবলে থাকা নেইমার এই বিশ্বকাপে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। স্কটল্যান্ড ও নরওয়ের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে খেলেছেন মাত্র ৩৬ মিনিট। আর এর মাঝেই জানিয়ে দিলেন, ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে তাকে আর দেখা যাবে না।

পরিসংখ্যানে নেইমার অধ্যায়
১৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের অধ্যায় শেষ হলো ১৩০ ম্যাচে রেকর্ড ৮০ গোল ও ৫৮টি অ্যাসিস্ট নিয়ে। সেলেসাওদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তার একমাত্র সিনিয়র শিরোপা ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ। এছাড়া ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকে সেলেসাওদের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জয়ের নায়কও ছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি অধরা থাকলেও, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা জাদুকর হিসেবে নেইমারের নাম চিরকালই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।