Corporate Sangbad
খেলাধুলা

প্যারাগুয়েকে হারিয়ে শেষ আটে ফ্রান্স, সামনে মরক্কো চমক

প্রকাশিত: ৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন · স্পোর্টস ডেস্ক

কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র পেনাল্টি গোলে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। শেষ আটে ফরাসিদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। আগামী বৃহস্পতিবার ফক্সবোরোতে সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে নামবে এই দুই দল। এর আগে নিজেদের ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টারে পা রাখে মরক্কো।

ফিলাডেলফিয়ার প্রচণ্ড গরমে ফ্রান্সকে পুরো ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। বিশেষ করে ফরাসি সুপারস্টার এমবাপ্পেকে কড়া পাহারায় ‘খোলসবন্দী’ করে রাখায় চেনা ছন্দে দেখা যায়নি ফ্রান্সকে। কোনোভাবেই তারা প্যারাগুয়ের জেদি রক্ষণভাগ ভাঙতে পারছিল না। অবশেষে ম্যাচের ৭০ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন এমবাপ্পে। বদলি খেলোয়াড় ডিসায়ার ডুয়ের আদায় করা পেনাল্টি থেকে গোল করে ফ্রান্সকে স্বস্তির জয় এনে দেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

চলতি আসরের আগের ম্যাচগুলোতে যে আগ্রাসী ফ্রান্সকে দেখা গিয়েছিল, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তা ছিল অনুপস্থিত। তবে এর পুরো কৃতিত্বই প্যারাগুয়ের কৌশলী ফুটবলের। ফরাসিদের তারা স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে দেয়নি। যদিও বলের দখল ও মাঠের আধিপত্যে ‘লেস ব্লুজ’রাই এগিয়ে ছিল। বিপরীতে, রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত প্যারাগুয়ে পুরো ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের গোলপোস্টে একটি শটও লক্ষ্যে (টার্গেট) রাখতে পারেনি।

এমবাপ্পের রেকর্ড: এই গোলের মাধ্যমে চলতি আসরে ৭ গোল করে লিওনেল মেসির সাথে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে উঠলেন এমবাপ্পে। একই সাথে বিশ্বকাপে ১৯ ম্যাচে এই ফরাসি স্ট্রাইকারের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ালো ১৯-এ, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসির সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের চেয়ে মাত্র এক গোল কম।

ম্যাচটিতে ফিলাডেলফিয়ার আবহাওয়াও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পাশাপাশি ঝড়ের আশঙ্কায় ছিল চরম আবহাওয়া সতর্কতা। এর আগে গ্রুপ পর্বে ইরাককে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচটিতেও বজ্রপাতের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ ছিল। তবে এবার আবহাওয়ার কারণে খেলা ব্যাহত হয়নি।

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের ৪১ নম্বরে থাকা প্যারাগুয়ে আগের রাউন্ডে টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করে বড় চমক দেখিয়েছিল। ফ্রান্সের বিপক্ষেও তারা ৫ জন ডিফেন্ডার নিয়ে ‘লো-ব্লক’ রক্ষণ ব্যূহ তৈরি করে। প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের চেনা কৌশলে বেশ কিছু কঠোর ফাউলও করে তারা। ফরাসি আক্রমণভাগ বারবার বাধা পাওয়ায় এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে প্যারাগুয়ের আন্দ্রেস কুবাসের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন এমবাপ্পে।

প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণের কারণে দূরপাল্লার শটই ছিল ফ্রান্সের প্রধান ভরসা। প্রথমার্ধে মানু কোনোয়ের একটি শট ডিফ্লেক্ট হয়ে অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিরতির পর তার আরেকটি প্রচেষ্টা কর্নারের বিনিময়ে দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল।

প্যারাগুয়ের রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা যখন সফল হতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই চাল চালেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশ্যম। মাইকেল ওলিসে ও ওসমান দেম্বেলে সুবিধা করতে না পারায় ম্যাচের এক ঘণ্টা পর ব্র্যাডলি বারকোলাকে তুলে নিয়ে তিনি মাঠে নামান ডিসায়ার ডুয়েকে। আর এই পরিবর্তনই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। প্যারাগুয়ের একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডুয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়লে তাকে ফাউল করেন দিয়েগো গোমেজ। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর উজবেকিস্তানের রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এমবাপ্পে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে এমবাপ্পে ব্যবধান দ্বিগুণ করার আরেকটি সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।

কাকতালীয়ভাবে, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপেও ঠিক এই নকআউট পর্বেই প্যারাগুয়েকে হারাতে ফ্রান্সের প্রয়োজন হয়েছিল একটি ‘গোল্ডেন গোল’। আর সেবারই নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল ফরাসিরা। এবারও কি তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে? উত্তর খুঁজতে দিদিয়ের দেশ্যমের দল এখন বোস্টনে ফিরে শেষ আটের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছে।