Corporate Sangbad
খেলাধুলা

কানাডার রূপকথার অবসান, টানা দ্বিতীয়বার কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

প্রকাশিত: ৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন · স্পোর্টস ডেস্ক

সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ৬৮ হাজার ৭৭৭ জন উল্লসিত দর্শকের সামনে প্রথমার্ধে দাপট দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত হারের হতাশায় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো কানাডিয়ানদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল জেসি মার্শের কানাডা। গ্যালারিতে মরোক্কান সমর্থকদের ছাড়িয়ে ধ্বনি উঠছিল স্বাগতিকদের। ম্যাচের ১০ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল তারা, তবে টানি ওলুওয়েসির শট মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো পা দিয়ে কোনোমতে রুখে দেন। এরপর কানাডার চতুর্থ কর্নার থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ডিফেন্ডার অ্যালিস্টেয়ার জনস্টন।

ম্যাচের ২০ মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় মোহাম্মেদ ওহাবির মরক্কো। বায়ার্ন মিউনিখের তারকা ইসমায়েল সাইবারি ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়লে তাঁর পরিবর্তে নামেন সোফিয়ানে রাহিমি। প্রথম অর্ধে গোল না পেলেও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছিল চরমে। বিরতির ঠিক আগে মরক্কো অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ও কানাডিয়ান ডিফেন্ডার রিচি লারেয়া বিতর্কে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন। রেফারি মাইকেল অলিভার প্রথমার্ধেই রেকর্ডসংখ্যক ৬টি হলুদ কার্ড দেখান, যার ৪টিই ছিল মরক্কোর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অর্ধে এটিই সর্বোচ্চ কার্ড দেখার রেকর্ড।

২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেও কানাডাকে হারিয়েছিল মরক্কো। তবে এই ম্যাচের প্রথমার্ধে গতবারের সেমিফাইনালিস্টদের মাঠেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিরতির পর সম্পূর্ণ ভিন্ন রণকৌশল নিয়ে মাঠে নামে আফ্রিকান দলটি।

খেলার ৫০ মিনিটেই ডেডলক ভাঙেন আজেডিন উনাহি। আশরাফ হাকিমির নিচু ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক শটে বল জালে জড়ান তিনি। কানাডিয়ান গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রিপিউ ডিফেন্ডারদের আড়ালে থাকায় বলের লাইনে আসতে পারেননি। পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালায় কানাডা। কিন্তু ম্যাচের ৮২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে কানাডাকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন উনাহি। আর ইনজুরি টাইমের অষ্টম মিনিটে স্বাগতিকদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন বদলি হিসেবে নামা সোফিয়ানে রাহিমি।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে একেবারেই 'আন্ডারডগ' হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল কানাডাকে। তবে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ জয় তুলে নেয় তারা। এরপর নকআউট পর্বের টিকিট কেটে ইতিহাস গড়লেও শেষ ষোলোতেই থামতে হলো তাদের রূপকথার যাত্রাকে। ইতিহাস গড়ার ম্যাচে সব চেষ্টা করেও প্রথমার্ধের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো সহ-আয়োজকদের।